News

ভূতত্ত্ব ও ভূ-অভ্যন্তরের গঠন কাঠামো

ভূতত্ত্ব ও ভূ-অভ্যন্তরের গঠন কাঠামো, এইচএসসি ২০২২ ভূগোল পঞ্চম সপ্তাহ এসাইনমেন্ট উত্তর

(ক)বিভিন্ন ভূমিরুপের চিত্র ও পৃথিবীর বাহ্যিক গঠনঃ

পৃথিবীর বাহ্যিক গঠনঃ পৃথিবী সৃষ্টির সময় ছিল একটি উত্তপ্ত গ্যাসীয়পিন্ড। সময়ের আবর্তে এটি শীতল ও ঘনীভূত হয়ে বর্তমান অবস্থায় রূপান্তরিত হয়।এই সময় পৃথিবীর বাইরের ভারী উপাদানগুলাে পৃথিবীর কেন্দ্রের আকর্ষণে কেন্দ্রের দিকে জমা হয় এবং হালকা উপাদানগুলাে ভরের তারতম্য অনুসারে পর্যায়ক্রমে নিচ থেকে উপরে স্তরে স্তরে জমা হয়। পৃথিবীর এই বিভিন্ন স্তরকে মন্ডল বলে। ভূ-পৃষ্ঠ সংলগ্ন নিচের দিকে পাতলা আবরণকে ভূ-ত্বক বলে (চিত্র-১)। বর্তুলাকার পৃথিবীর ব্যাসার্ধ প্রায় ৬,৪০০ কি.মি

[adToAppearHere]

Top Stories

চিত্র-১:ভূ-ত্বক এর অবস্থান।

ভূ-ত্বকের গঠন পৃথিবীর উপরিভাগের শক্ত আবরণ ভূ-ত্বক বিভিন্ন ধরনের খনিজ ও শিলা দ্বারা গঠিত। ভূ-ত্বক অশ্মমন্ডলেরই উপরিভাগ যার মধ্যে অক্সিজেন ও সিলিকনের পরিমাণ বেশি। আজ পর্যন্তআবিষ্কৃত মােট ১০৫টি মৌলিক উপাদানের মধ্যে ২০টি উপাদান ভূ-ত্বকের প্রায় শতকরা ৯৯.৫ অংশ দখল করে আছে। ভূ-ত্বকের গভীরতা সর্বত্র সমান নয়। তবে এর গড় গভীরতা ২০ কিলােমিটার। গ্রানাইট স্তরের গড় গভীরতা ৮ কিলােমিটার। ভূ-ত্বক গঠনকারী শিলারাশির ঘনত্ব ২.৭৫ থেকে ৩.০ পর্যন্ত। ভূ-ত্বক বা অশ্মমন্ডলের উপরিভাগেই পৃথিবীর বাহ্যিক দিকগুলাে দেখা যায়। যেমন- সমভূমি, মালভূমি, পাহাড়, পর্বত, নদী, হ্রদ, সাগর, মহাসাগর ইত্যাদি।

[adToAppearHere]

(খ) ভূ অভ্যন্তরের স্তর গভীরতাসহ চিহ্নিতকরনঃ

পৃথিবীর অভ্যন্তরের কঠিন আবরণ ভেদ করে গভীরে প্রবেশ করে ভূ-অভ্যন্তরের অবস্থা জানার তেমন কোনাে সুযােগ নেই। খনিজ সম্পদ আহরণের জন্য এ পর্যন্তসবচেয়ে গভীরতম কূপ মাত্র ৮ কিলােমিটার ভূ-অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পেরেছে। ক্ষয়কার্যের ফলে মাত্র ২০-২৫ কিলােমিটার গভীরের শিলা উন্মুক্ত হয়েছে। এজন্য ভূবিজ্ঞানীরা ভূ-অভ্যন্তরভাগ সম্পর্কে জানার জন্য তিন ধরনের তথ্যের উপর নির্ভর করে থাকেন। এগুলাে হলাে

[adToAppearHere]

ক) আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত থেকে প্রাপ্ত ভূ-অভ্যন্তরের শিলার নমুনা,

খ) পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্রের বৈশিষ্ট্য ও ঘনত্ব এবং

গ) ভূ-কম্পন তরঙ্গের বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ।

ভূ-অভ্যন্তরের স্তরসমূহ : ভূ-অভ্যন্তরের প্রধান স্তরসমূহ এবং উপরিভাগের শিলামন্ডল,বারিমন্ডল এবং বায়ুমন্ডল চিত্রে-২ দেখানাে হয়েছে।

[adToAppearHere]

নিমে ভূ-অভ্যন্তরভাগের প্রধান তিনটি স্তরের বর্ণনা দেওয়া হলাে।

ক.অশ্মমঙুলঃ ভূ-পৃষ্ঠ থেকে অভ্যন্তরে প্রায় ৭০০ কিলােমিটার গভীর পর্যন্তপ্রথম স্তরকে অশ্মমন্ডল বলে। ভূকম্পন তরঙ্গ থেকে জানা যায় যে, এ স্তরটি মূলত সিলিকন ও অ্যালুমিনিয়াম উপাদান দিয়ে গঠিত যা সিয়াল(Sial) নামে পরিচিত। ভূ-ত্বকের নিচের দিকে প্রতি কিলােমিটারে ৩০০ সেলসিয়াস তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়। অশ্বমন্ডলের নিচে গুরুমন্ডল ও কেন্দ্রমন্ডল নামে আরাে দুটি প্রধান স্তর রয়েছে।

[adToAppearHere]

খ.গুরুমন্ডল: কেন্দ্রমন্ডলের বহি:ভাগ থেকে ভূ-ত্বকের নিম্নস্তর পর্যন্ত প্রায় ৭০০-২৯০০ কিলােমিটার বিস্তৃত স্তরকে গুরুমন্ডল বলে। এটি মূলত ব্যাসল্ট,শিলা, সিলিকা, ম্যাগনেসিয়াম, লােহা, কার্বন ও অন্যান্য খনিজ পদার্থ দ্বারা গঠিত। তবে সিলিকা ও ম্যাগনেসিয়াম উপাদানের আধিক্যের কারণে এটি সিমা(ঝরসধ) নামে পরিচিত। গুরুমন্ডলের ১০০ কিলােমিটার গভীরতায় তাপমাত্রা আনুমানিক ১১০০০ ১২০০০ সেলসিয়াস। বহিঃকেন্দ্রমন্ডলের সীমানায় এ তাপমাত্রা ৩০০০০ সেলসিয়াসের কাছাকাছি। গুরুমন্ডল দুই ভাগে বিভক্ত।

[adToAppearHere]

(১) ঊর্ধ্ব গুরুমন্ডল যা ৭০০ কিলােমিটার পর্যন্তবিস্তৃত। লােহা ও ম্যাগনিসিয়াম দ্বারা গঠিত।

(২) নিম্ন গুরুমন্ডল যা প্রধানত আয়রন অক্সাইড, ম্যাগনেসিয়াম অক্সাইড ও সিলিকন ডাই-অক্সাইড দ্বারা গঠিত।

এটি ৭০০ কি মি হতে ২.৯০০ কি.মি পর্যন্তবিস্তত। গ)কেন্দ্রমণ্ডল গুরুমন্ডলের ঠিক পরেই রয়েছে কেন্দ্রমন্ডল। কেন্দ্রমন্ডল, গুরুম্মন্ডলের নিম্নভাগ থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত প্রায় ৩,৪৭৯ কিলােমিটার বিস্তৃত। এর গড় ঘনত্ব প্রায় ১০.৭৮ সে.মি.। কেন্দ্রের দিকে ঘনত্ব বাড়তে থাকে। ভূকম্পন তরঙ্গের সাহায্যে জানা গেছে যে, কেন্দ্রমন্ডলে একটি তরল বহিরাবরণ আছে, যা প্রায় ২,২৭০ কিলােমিটার পুরু এবং কঠিন অন্তঃভাগ আছে যা প্রায় ১,২১৬ কিলােমিটার পুরু। কেন্দ্রমন্ডলের উপাদানগুলাে হলাে লােহা, নিকেল, পারদ ও সিসা। তবে প্রধান উপাদান হলাে নিকেল ও লােহা যা নাইফনামে পরিচিত।

গ) ভূ-অভ্যন্তরের গঠন বর্ণনা ভূ-অভ্যন্তরের স্তরবিন্যাসঃ

ভূকম্পন তরঙ্গ ও অন্যান্য উৎস থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা জানতে পেরেছেন যে, ভূপৃষ্ঠ থেকে কেন্দ্রের দিকে পৃথিবীর তাপ, চাপ এবং গঠন উপাদানসমূহের ঘনত্ব বৃদ্ধি পেতে থাকে। এসব তথ্য পর্যালােচনা ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে তারা ভূঅভ্যন্তরকে ৩টি মণ্ডলে বা স্তরে বিভক্ত করেছে। যথা

১. অশ্মমণ্ডল।

২, গুরুমণ্ডল।

৩ঃকেন্দ্রমণ্ডল

১.অশ্মমণ্ডলঃ গােলাকার পৃথিবীর একেবারে বাইরের অংশকে বলা হয়। অশ্মমণ্ডল। এর গভীরতা ৬০ কি.মি., ঘনত্ব ২.৯ কি.গ্রা/ঘনমিটার এবং সর্বোচ্চ। ভূত্বক হলাে অমণ্ডলের প্রকৃতপক্ষে এটা ভূমণ্ডলের খাড়া অংশ যা অ্যাসথেনােস্ফিয়ারের উপর ভাসমান সর্ববহিঃস্থ অংশ অবস্থায় রয়েছে। এর বহিরাবরণকে বলা হয় ভূত্বক।

[adToAppearHere]

২.গুরুমণ্ডলঃ ভূত্বকের নিচ থেকে কেন্দ্রমণ্ডলের বহিঃভাগ পর্যন্ত গুরুমণ্ডল বিস্তৃত। এ মণ্ডল গঠনকারী উপাদানগুলাের মধ্যে সিলিকন ও ম্যাগনেসিয়ামের প্রাধান্য থাকায় ইংল্যান্ডে জন্মগ্রহণকারী অস্ট্রিয়ান ভূবিজ্ঞানী নমঃ নমস (২০১০) একে সিমা নামে অভিহিত করেন। তার বিটিম ততবিদ ন মানিলন অন্যান্য উপাদান মিলে সিলিকেট ও অক্সাইড তৈরি করে যা শিলা হিসেবে আখ্যায়িত। শিলার স্তর : ভূকম্পন তরঙ্গের গতিবেগের ওপর নির্ভর করে ভূত্বকের শিলাস্তরকে নিম্নের তিনটি স্তরে ভাগ করা যায়ঃ

[adToAppearHere]

গ্রানাইট জাতীয় আন্ত্রিক শিলাস্তরঃ এখানে ভূমিকম্পের P তরঙ্গ প্রতি সেকেন্ডে ৬.২ কিলােমিটার বেগে প্রবাহিত হয়। অপেক্ষাকৃত হালকা উপাদান দ্বারা এই স্তরটি গহিত। তবে এদের মধ্যে সিলিকা (Si) ও অ্যালমিনিয়াম (A) বেশি থাকায় স্তরটি সিয়াল (SiAI) নামে পরিচিত। স্তরটির আপেক্ষিক গুরুত্ব ২.৭-২.৯৷ গ্রানাইট স্তরে কোয়ার্টজ ও ফেলসপার বেশি থাকায় একে ফেলসিক স্তরও বলা হয়।

ব্যাসল্ট জাতীয় ক্ষারকীয় শিলাস্তরঃ ভূকম্পন তরঙ্গের গতিবেগ এখানে প্রতি সেকেন্ডে ৭ কিলােমিটার। গ্রানাইট স্তরের ঠিক নিচে এই শিলাস্তরের আপেক্ষিক গুরুত্ব গড়ে ৩.২। এখানে সিলিকার পরিমাণ গ্রানাইট স্তর অপেক্ষা কম (৪৫%-৫৫% যেখানে গ্রানাইট ৭০%)। অপর প্রধান উপাদান ম্যাগনেসিয়ামও সিলিকার প্রায় সমপরিমাণে (৫৫%-৪৫%) থাকে। প্রধান দুই উপাদানের ভিত্তিতে স্তরটির নামকরণ করা হয়েছে Sima (সিমা)। কনরাড বিযুক্তি গ্রানাইট ও ব্যাসল্ট জাতীয় শিলাস্তরের সীমারেখা কনরাড বিযুক্তি হিসেবে আখ্যায়িত।

[adToAppearHere]

অলিভিন জাতীয় অতিক্ষারকীয় শিলাস্তরঃ এই শিলাস্তরে P তরঙ্গের গতিবেগ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি সেকেন্ডে ৮ কিলােমিটার হয়। অনেকে একে গুরুমণ্ডলের অংশ বলে থাকেন। কারণ এর অবস্থান ‘মােহাে’ বিযুক্তির পর যেখান থেকে গুরুমণ্ডলের শুরু। তবে এই কঠিন স্তরসহ ভুতুক অ্যাসথেনােস্ফিয়ারের উপর ভাসছে বিধায় অনেকে একে ভূত্বকের অংশ হিসেবে ধরাকে যুক্তিযুক্ত মনে করেন। মােহাে বিক্রি হচ্ছে ভূতকের ব্যাসল্ট জাতীয় শিলাস্তর ৩ অলিভিন শিলাস্তরের সীমানা।

(ঘ)ভূ-অভ্যন্তরের উপাদান বিশ্লেষনঃ

[adToAppearHere]

মহাদেশীয় এবং মহাসাগরীয় ভূত্বকের সাধারণ উপাদান নিম্নোক্তভাবে বর্ণনা করা যায় মহাদেশীয় ভূত্বকঃ

এটি সমগ্র ভূমণ্ডলের ০.৩৭৪% এবং এর গভীরতা ০-৭০ কিলােমিটার (০-৪৩ মাইল) পর্যন্ত। অশ্মমণ্ডলের উপরাংশের কঠিন ভূত্বক নানাপ্রকার খনিজ ও শিলা দ্বারা গঠিত। এর মধ্যে কোয়ার্টজ (SiO) ও ফেলসপার (সিলিকেট) প্রধান খনিজ উপাদান। মহাদেশীয় ভূত্বক যথেষ্ট বৈচিত্র্যপূর্ণ ও পরিবর্তনশীল। জার্মান ভূগােলবিদ আলফ্রেড ওয়েগনারের মতে, মহাদেশগুলাে অতীতে একটিমাত্র ‘প্যানজিয়া’ নামক ভূখণ্ড বা মহাদেশ হিসেবে ছিল যা পরবর্তীতে উষ্ণ গুরুমণ্ডল থেকে সঞ্চায়িত পরিচলন স্রোতের প্রভাবে ধীরে ধীরে বিচ্ছিন্ন হয়ে বর্তমান অবস্থাপ্রাপ্ত হয়েছে।

[adToAppearHere]

প্লেট টেকটোনিক তত্ত্ব অনুযায়ী, সমগ্র ভূপৃষ্ঠে (মহাসাগরসহ) ৭টি বৃহদাকার প্লেট এবং কমপক্ষে ২০টি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্লেট আছে যা অ্যাসথেনােস্ফিয়ারের উপর ভাসছে উপাদান নানাপ্রকার আগ্নেয়, পাললিক ও রূপান্তরিত শিলা এবং বৈচিত্র্যপূর্ণ খনিজ সম্ভার মহাদেশীয় ভূ-ত্বকের প্রধান উপাদান। ভূত্বকের উপরিভাগে রয়েছে অত্যন্ত পাতলা হিউমাস সমৃদ্ধ মৃত্তিকাস্তর যাতে উদ্ভিদরাজি ও প্রাণিকুল বসবাস করছে। এই পাতলা স্তরটির প্রধান প্রধান উপাদান হলাে: অক্সিজেন (O) ৪২.৮%, সিলিকন (Si) ২৭.৮%, অ্যালুমিনিয়াম (AI) ৮%, লৌহ (Fe) ৫%, ক্যালসিয়াম (Ca) ৩.৭%,সােডিয়াম (Na) ২.৮%, পটাসিয়াম (K) ২.৬%, ম্যাগনেসিয়াম (Mg) ২.১%,নাইট্রোজেন, জিংক, তামা ও ম্যাঙ্গানিজ ইত্যাদি। এগুলাের মধ্যে অক্সিজেন (O) ও সিলিকনের (Si) সাথে অন্যান্য উপাদান মিলে সিলিকেট ও অক্সাইড তৈরি করে যা শিলা হিসেবে আখ্যায়িত।

[adToAppearHere]

শিলার স্তর : ভূকম্পন তরঙ্গের গতিবেগের ওপর নির্ভর করে ভূত্বকের শিলাস্তরকে নিম্নের তিনটি স্তরে ভাগ করা যায়ঃ গ্রানাইট জাতীয় আন্ত্রিক শিলাস্তরঃ এখানে ভূমিকম্পের P তরঙ্গ প্রতি সেকেন্ডে ৬.২ কিলােমিটার বেগে প্রবাহিত হয়। অপেক্ষাকৃত হালকা উপাদান দ্বারা এই স্তরটি গহিত। তবে এদের মধ্যে সিলিকা (Si) ও অ্যালমিনিয়াম (A) বেশি থাকায় স্তরটি সিয়াল (SiAI) নামে পরিচিত। স্তরটির আপেক্ষিক গুরুত্ব ২.৭-২.৯৷ গ্রানাইট স্তরে কোয়ার্টজ ও ফেলসপার বেশি থাকায় একে ফেলসিক স্তরও বলা হয়।

[adToAppearHere]

ব্যাসল্ট জাতীয় ক্ষারকীয় শিলাস্তরঃ ভূকম্পন তরঙ্গের গতিবেগ এখানে প্রতি সেকেন্ডে ৭ কিলােমিটার। গ্রানাইট স্তরের ঠিক নিচে এই শিলাস্তরের আপেক্ষিক গুরুত্ব গড়ে ৩.২। এখানে সিলিকার পরিমাণ গ্রানাইট স্তর অপেক্ষা কম (৪৫%-৫৫% যেখানে গ্রানাইট ৭০%)। অপর প্রধান উপাদান ম্যাগনেসিয়ামও সিলিকার প্রায় সমপরিমাণে (৫৫%-৪৫%) থাকে। প্রধান দুই উপাদানের ভিত্তিতে স্তরটির নামকরণ করা হয়েছে Sima (সিমা)। কনরাড বিযুক্তি গ্রানাইট ও ব্যাসল্ট জাতীয় শিলাস্তরের সীমারেখা কনরাড বিযুক্তি হিসেবে আখ্যায়িত।

অলিভিন জাতীয় অতিক্ষারকীয় শিলাস্তরঃ এই শিলাস্তরে P তরঙ্গের গতিবেগ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি সেকেন্ডে ৮ কিলােমিটার হয়। অনেকে একে গুরুমণ্ডলের অংশ বলে থাকেন। কারণ এর অবস্থান ‘মােহাে’ বিযুক্তির পর যেখান থেকে গুরুমণ্ডলের শুরু। তবে এই কঠিন স্তরসহ ভুতুক অ্যাসথেনােস্ফিয়ারের উপর ভাসছে বিধায় অনেকে একে ভূত্বকের অংশ হিসেবে ধরাকে যুক্তিযুক্ত মনে করেন। মােহাে বিক্রি হচ্ছে ভূতকের ব্যাসল্ট জাতীয় শিলাস্তর ৩ অলিভিন শিলাস্তরের সীমানা।

[adToAppearHere]

মহাসাগরীয় ভূত্বকঃ এটি সমগ্র ভূমণ্ডলের ০.০৯৯%; গভীরতা ০-১০ কি.মি. (০-৬ মাইল)। মহাসাগরীয় ভূত্বকের অধিকাংশ অগ্ন্যুৎপাতের ফলে সৃষ্ট মহাসাগরীয় শৈলশিরাগুলাে ৪০,০০০ কিলােমিটার (২৫,০০০ মাইল) বিস্তৃত আগ্নেয় নেটওয়ার্ক সৃষ্টি করেছে। প্রতিবছর সমুদ্রের তলদেশে ১৭ কিউবিক কিলােমিটার আগ্নেয় (ব্যাসল্ট) ভূত্বক সৃষ্টি হয় যা ক্রমেই উচ্চতাপ্রাপ্ত হয়। হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জ (প্রশান্ত মহাসাগর) ও আইসল্যান্ড (উত্তর আটলান্টিক মহাসাগর) সমুদ্রতল হতে ক্রমােচ্চতাপ্রাপ্ত আগ্নেয়দ্বীপের প্রকৃষ্ট উদাহরণ। মহাসাগরীয় ভতুক মলত থােলেইটিক জাতীয় ব্যাসল্ট দ্বারা গঠিত।

এই জাতীয় ব্যাসল্টে কোন অলিভিন মিশ্রিত থাকে না। এটি অত্যন্ত গাঢ়, রং এর আগ্নেয় পদার্থ যা তরল লাভা শীতলাকরণের! সষ্ট দানাগুলাে এত মিহি যা,শুধু অণুবীক্ষণ যন্ত্রে দেখা যায়। মহাসাগরীয় ভতুকের গড় ঘনত্ব প্রতি ঘনমিটারে।

[adToAppearHere]

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Check Also
Close