এসএসসি পৌরনীতি ও নাগরিকতা এসাইনমেন্ট ২০২১ সমাধান দেখুন

২০২১ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য নতুন মানবিক বিভাগের দ্বিতীয় সপ্তাহের জন্য নির্ধারিত অ্যাসাইনমেন্ট পৌরনীতি ও নাগরিকতা বিষয়ের প্রশ্ন ও সমাধান এখানে প্রকাশ করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের নতুন একটি বিজ্ঞপ্তিতে তারা পরিবর্তিত অ্যাসাইনমেন্ট এর প্রশ্ন একটি একটি পিডিএফ ফাইল আকারে প্রকাশ করেছে। আমরা নতুন পিডিএফ ফাইল টি ডাউনলোড করে তোমাদের জন্য এই পোস্ট দিয়েদিলাম। মূলত যে সকল ছাত্রছাত্রীরা পৌরনীতি ও নাগরিকতা বিষয়ের দ্বিতীয় সপ্তাহের নতুন এসাইনমেন্ট দেখেননি তাদের জন্য এই পোস্টটি আপডেট করা হলো।

প্রিয় শিক্ষার্থী আপনি যদি 2021 সালের এসএসসি পরীক্ষাতে হয়ে থাকেন এবং মানবিক বিভাগ থেকে পরীক্ষার জন্য অংশগ্রহণ করতে প্রস্তুত হয়ে থাকেন তাহলে এই পোস্টটি আপনার জন্যই প্রযোজ্য। আমরা এখানে সংশোধিত পৌরনীতি ও মানবিকতা বিষয়ের দ্বিতীয় সপ্তাহের এসাইনমেন্ট উত্তর করব। আশা করছি আমাদের সাথে থেকে সম্পূর্ণ এসাইনমেন্ট এর উত্তর গুলো ডাউনলোড করে নিবেন।

এসএসসি ২০২১ মানবিক বিভাগ পৌরনীতি নতুন অ্যাসাইনমেন্ট

আপনারা হয়তো ইতিমধ্যে এই ধারণা পেয়ে গেছেন যে শুধুমাত্র বিভাগীয় তিনটি বিষয়ের উপর আগামী এসএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এরই লক্ষ্যে তিন সপ্তাহের জন্য পৌরনীতি ও মানবিক বিভাগের অ্যাসাইনমেন্ট প্রদান করা হয়েছিল। কিন্তু সামান্য সমস্যা থাকার কারণে কতৃপক্ষ দ্বিতীয় সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্টের কাজটি বন্ধ করে দিয়েছিল এবং এখন নতুন করে আবার অ্যাসাইনমেন্ট সংশোধিত আকারে তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেছে।

শিক্ষার্থীদের কে অবশ্যই সংশোধিত নতুন এসাইনমেন্ট এর উত্তর করে জমা দিতে হবে। পুরনো অ্যাসাইনমেন্টের উত্তর করে জমা দিলে তা নাম্বার পাবে না বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বলে দিয়েছে। তাই আশা করি যারা এই ব্যাপারটি জানো তোমরা সকলের সাথে শেয়ার করবে এবং এই পোস্টটি তোমাদের সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুক টাইমলাইনে দিয়ে দিবে।

এসএসসি পৌরনীতি ও নাগরিকতা নতুন এসাইনমেন্ট দ্বিতীয় সপ্তাহ

এসএসসি পৌরনীতি ও নাগরিকতা বিষয়ের নতুন যে অ্যাসাইনমেন্ট প্রকাশ করেছিল তার ছবি ও প্রশ্নগুলো আমরা নিচে প্রকাশ করতে যাচ্ছি। আশা করি সকল ভুলভ্রান্তি আমাদেরকে তোমরা কমেন্টের মাধ্যমে বলে দিবে। সকল প্রকার উত্তরগুলো আমরা বিভিন্ন ভাল লেখকদের বই থেকে সংগ্রহ করে তোমাদের জন্য এখানে উপস্থাপন করেছি।

বিষয়: পৌরনীতি ও নাগরিকতা প্রথম অধ্যায়

অ্যাসাইনমেন্ট নির্ধারিত নতুন কাজ: বাংলাদেশে বিদ্যমান পরিবার ব্যবস্থা ও একটি আদর্শ পরিবার এর কার্যপ্রণালী বিশ্লেষণ।

এখান থেকে যেসকল শিখনফল দেওয়া হয়েছে তা হচ্ছে পরিবার সমাজ রাষ্ট্র ও সরকারের ধারণা ব্যাখ্যা করতে পারবে। এবং শিক্ষার্থীরা পরিবার সমাজ রাষ্ট্র ও সরকারের সম্পর্ক বিশ্লেষণ করতে পারবে।

এ নির্দেশনা মোতাবেক এই অ্যাসাইনমেন্টে অবশ্যই সম্পন্ন করতে হবে। নির্দেশনা কিছু কিছু এখানে অ্যাসাইনমেন্টের কপিতে দেওয়া হয়েছে তার ভিতরে বলা হয়েছে পরিবার ও পরিবারের ধরন। যৌথ পরিবারের হ্রাস ও একক পরিবারের সংখ্যা বৃদ্ধির কারণ বর্ণনা করতে হবে। এবং একটি আদর্শ পরিবার গঠন করতে যে সকল কার্যাবলী প্রয়োজন সেগুলো এখানে আলোচনা করতে হবে।

এসএসসি নতুন পৌরনীতি ও নাগরিকতা দ্বিতীয় সপ্তাহে এসাইনমেন্টের উত্তর

দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে যে সকল কাজ দেয়া হয়েছে তা আমরা ইতিমধ্যেই উত্তর করতে সক্ষম হয়েছি। এখন আমরা নিচে আলোচনা করব একটি আদর্শ পরিবারের কার্যাবলী।

বাংলাদেশে বিদ্যমান পরিবার ব্যবস্থা ও একটি আদর্শ পরিবারের কার্যাবলী বিশ্লেষণ:

পরিবার ও পরিবারের ধারণা: পরিবার একটি আদিম সামাজিক প্রতিষ্ঠান। মানুষ একা একা বসবাস করতে পারে না তাই তার সমকামী হিসেবে মানুষ স্বভাবতই পরস্পর মিলেমিশে একত্রে বসবাস করতে চায়। মানুষের এই আকাঙ্ক্ষার অভিব্যক্তি হলো পরিবার পরিবারের ভিত্তি হলো যৌগিক যৌনতা কারণ নারী পুরুষ বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয় এবং সন্তান-সন্ততি জন্মগ্রহণ করে।

নারী-পুরুষ একে অপরের প্রতি আকর্ষণ ও বাৎসল্য তাদের পারিবারিক জীবন যাপনে অনুপ্রাণিত করে স্নেহ মায়া-মমতা ও নিরাপত্তা আকাঙ্ক্ষা পরিবারের ভিত্তি। পরিবারের বিকল্প চিন্তা করা যায় না বাংলাদেশের বিদ্যমান পরিবার ব্যবস্থা ও একটি আদর্শ পরিবারের কার্যাবলী বিশ্লেষণ পূর্বক নিম্নে আলোচনা করা হল:

পরিবারের ধারণা, পরিবার একটি ক্ষুদ্র সামাজিক বর্গ পরিবার বলতেসে সামাজিক সংস্থা কে বুঝায় যেখানে এক বা একাধিক পুরুষ তার বা তাদের স্ত্রী পুত্র কন্যা সন্তান ও অন্যান্য পরিজনদের কে নিয়ে একত্রে বসবাস করে।

এই সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে অধ্যাপক মার্ক এইবার তার পরিবারের সংজ্ঞা দিয়ে বলেন পরিবার হল ক্ষুদ্র ও স্থায়ী বর্গ যার উদ্দেশ্য সন্তান জন্মদান ও লালন-পালন করা।

পরিবার এর প্রকারভেদ বংশ পরিচয় ও নিয়ন্ত্রণের ধারা বংশ পরিচয় ও নিয়ন্ত্রণের ভিত্তিতে পরিবার কে দুই ভাগে ভাগ করা যায়:

১। পিতৃতান্ত্রিক পরিবার ও

২।মাতৃতান্ত্রিক পরিবার

পিতৃতান্ত্রিক পরিবার হচ্ছে যখন পিতা পরিবারের কর্তা এবং পিতার দিকে তাকিয়ে তার পরিবার নিয়ন্ত্রিত হয় এবং সমাজবিজ্ঞানী হিন্দিমে পরিবারকে ব্যবস্থাকে একটি আদি অকৃত্তিম বলে উল্লেখ করেছেন।

অন্যদিকে মাতৃতান্ত্রিক পরিবার বলতে যখন পরিবারের সম্পূর্ণ দায়ভার মাতা’র উপর পরে। এবং পরিবারের প্রধান একজন মা তাকে মাতৃতান্ত্রিক পরিবার বলা হয়। প্রাচীনকালে মিশরের তিব্বতে এই ধরনের পরিবার ব্যবস্থা বিরাজমান ছিল কিন্তু বর্তমানে বাংলাদেশে ও আসামের কাশিয়ানী তাত্ত্বিক গোষ্ঠীর মধ্যে কার ওদের মধ্যে এজন্যে পরিবার ব্যবস্থা কিছুটা পরিলক্ষিত হয়।

বিবাহ প্রথা ও ব্যবহার উপর ভিত্তি করে পরিবার কে তিন ভাগে ভাগ করা যায় যেমন:

১।এক পত্নীক পরিবার

২।বহুপত্নীক পরিবার ও

৩।বহুপতি পরিবার

এক পত্নীকে পরিবার হচ্ছে যদি একজন স্বামী একজন স্ত্রী গ্রহণ করে পরিবার গঠন করে তবে তাকে এক পথিক পরিবার বলা হয় এটি বর্তমান কালে বাংলাদেশের প্রচলিত পরিবার ব্যবস্থা বলে বিবেচিত হয়।

বহুপত্নীক পরিবার বলতে যেখানে একজন পুরুষ তার একাধিক স্ত্রী বিবাহ করে পরিবারের গঠন করে তখন তাকে বহুপত্নীক পরিবার বলা হয়। কিছু কিছু জায়গায় এবং কি কিছু কিছু মানুষের ক্ষেত্রে এ ধরনের পরিবার ব্যবস্থা বাংলাদেশ দেখা যায় এখানে অর্থনৈতিক কারণ পরিবারের ব্যবস্থা কমে যাচ্ছে।

বহুপতি পরিবার বলতে একজন স্ত্রী একের অধিক স্বামী গ্রহণ করে অর্থাৎ দুই থেকে তিনটি স্বামী থাকে তখন তাকে বহুপতি পরিবার বলা হয়। এই পরিবার ব্যবস্থা হিন্দু ধর্মে মহাভারতের পঞ্চপান্ডব এর এক বৌ দৌপদ্রী এর কথা উল্লেখ করা আছে।

কাঠামো ও আকৃতির ভিত্তিতে পরিবারকে দুই শ্রেণীতে ভাগ করা যায়:

ক) একক পরিবার ব্যবস্থা

খ) যৌথ পরিবার ব্যবস্থা

একক পরিবার ব্যবস্থা বলতে যখন স্বামী-স্ত্রী তাদের উপর নির্ভরশীল সন্তানদেরকে নিয়ে পরিবার গঠন করে এবং কি একা একা বসবাস করে তাদেরকে একক পরিবার ব্যবস্থা বলা হয়।

অন্যদিকে যে সকল পরিবার ব্যবস্থার ভিতরে স্বামী-স্ত্রী পিতা-মাতা ভাই-বোন নানা-নানী দাদা-দাদী চাচা-চাচী অাপু সকল সন্তান-সন্ততির কে নিয়ে একত্রে বসবাস করে তাকে যৌথ পরিবার ব্যবস্থা বলা হয়।

#যৌথ পরিবার হ্রাস ও একক পরিবার বৃদ্ধির কারণ সমূহ বর্ণনা:

যৌথ পরিবার কমে যাওয়া ও একক পরিবার বৃদ্ধি হওয়ার মূলত যে সমস্যাটা হয় তা হচ্ছে অর্থনৈতিক যোগানদাতা। একটি যৌথ পরিবার অনেকগুলো মানুষের সমন্বয়ে গঠিত হয়ে থাকে যার লোক সংখ্যা 20 থেকে 25 জন অথবা তার উর্ধে তাকলেও তাকে যৌথ পরিবার ব্যবস্থা অর্থনৈতিক যোগানদাতা মাত্র দুই থেকে তিনজন হয়ে থাকে আবার তাদের আয়ের পরিমাণ সমান নয়। এই অবস্থায় যৌথ পরিবার থেকে পরিবার চালানো অত্যন্ত কষ্টসাধ্য ব্যাপার হয়ে পড়ে এবং নিজের স্ত্রী সন্তান ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে যৌথ পরিবার ভেঙ্গে মা-বাবা তাদের যদি অন্যান্য সদস্যদের কে ছেড়ে একক পরিবার গঠন করা হয়।

ব্যক্তি স্বার্থপরতা, যৌথ পরিবারের একটি অর্থনৈতিক যোগানদাতা ব্যক্তিগণ অনেক সময় সবার সাথে মিলেমিশে যৌথ সম্পত্তি গড়ে তোলার পাশাপাশি যৌথ পরিবারের সদস্যদের অজান্তে নিজের থাকে যার স্ত্রী অথবা সন্তানের নামে আলাদা সম্পত্তি গড়ে তোলেন এখানে ব্যক্তি স্বার্থপরতা জিনিস পরিলক্ষিত হয়।

কর্মজীবীদের সংখ্যা বৃদ্ধি, পরিবারের কর্মজীবী সদস্যদের সংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে যার কর্মজীবী সদস্যগণ চাকরির সুবাদে দীর্ঘদিন তাদের যৌথ পরিবারের বাহিরে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থাকতে হয় ফলশ্রুতিতে একসময় তাদের মধ্যে যৌথ পরিবার ব্যবস্থার আগ্রহ কমে যায় এবং তাদের সন্তানের বাবা হতে এক পরিবারের থাকা অবস্থায় তাকে অরাজকতা সৃষ্টি হয়।

ব্যক্তিগত আধিপত্য বিস্তার, বর্তমান সমাজ ব্যবস্থায় যৌথ পরিবার ভেঙে যাওয়ার মূল কারণ হচ্ছে ব্যক্তিগত আধিপত্য বিস্তার করন করা। পরিবারের প্রত্যেক ব্যক্তিবর্গ চান শেখ পরিবারের একজন আদর্শ নেতৃত্বকারী অথবা নিয়ন্ত্রক হতে। এতে করে পরিবারের অন্যদের মধ্যে পরিবারের মন ভেঙে দেওয়ার একটি প্রবণতা দেখা যায়। ব্যক্তিগত আধিপত্য বিস্তার করা এটিও একটি জঘন্য কাজ এবং পরিবার ভেঙ্গে যাওয়ার একটি কারণ হতে পারে।

#আদর্শ পরিবার এর কার্যাবলী বর্ণনা:

প্রিয় শিক্ষার্থীরা আমরা এই পর্যায়ে আলোচনা করব একটি আদর্শ পরিবারের কার্যাবলী। পরিবারের কাজের দিকে খেয়াল করলে বুঝা যায় পরিবারের কাজের গুরুত্ব কতখানি এবং পরিবার কি কাজ করে পরিবারের সাধারণত নিম্নলিখিত কাজগুলো করা হয় তাকে তা বর্ণনা করা হলো নিচে।

যৌগিক কাজ: পরিবারের অন্যতম কাজ সন্তান-সন্ততি জন্মদান এবং লালন-পালন করা এই কাজটি পরিবারের ভিত্তি কেননা যৌনতা নারী-পুরুষ একে অপরের প্রতি আকর্ষণ ও সন্তান জন্মদানের কারণেই মানুষ পরিবার গঠন করে।

শিক্ষা মূলক কাজ: পরিবারকে সমাজজীবনের সাসথ্য বিদ্যালয় বলা হয় শিশুরা প্রথম শিক্ষা বর্ণপরিচয় ও যোগ-বিয়োগ পরিবার থেকে এসেছে এমনকি বড় হয় স্কুলে যে শিক্ষা দেয়া হয় তার পরিবারের নিয়ন্ত্রণ পূর্ণতা পায় যেমন পরিবারের মাতা-পিতার সাহায্য-সহযোগিতা ইস্কুলের শিক্ষার ভিত্তি মজবুত হয়।

অর্থনৈতিক কাজ: পরিবারের মধ্যেই অর্থনৈতিক কার্যাবলি সম্পাদিত হতো এবং শিকার মৎস্য সংগ্রহ কুটিরশিল্প প্রভৃতি কাজ পরিবারের সদস্যরা সম্পাদন করে জীবন ধারণ করতো তখন তাদের চাহিদা কম ছিল বলে পরিবারের সদস্যদের সকল চাহিদা পূরণ করতে পারতো কিন্তু বর্তমানে অর্থনৈতিক চাহিদা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সম্প্রসারণ এর ফলে পরিবারের সদস্যগণ অফিস-আদালত ও নানাবিধ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় থেকে আয় করে থাকে।

পরিশেষে আমরা এটুকু বলতে পারি যে, যৌথপরিবার হ্রাস ও একক পরিবার বৃদ্ধির কারণ গুলো আমরা উপরে বর্ণনা করতে সমর্থ হয়েছি। আমরা আশা করি তোমাদের আরও কোনো সমস্যা বা ও উত্তর জানা থাকলে তা আমাদেরকে কমেন্ট করে জানাতে পারো আমরা সাথে সাথে তোমাদের সকল সমস্যার সমাধান করে দিব।

এসএসসি পৌরনীতি ও নাগরিকতা [৪র্থ সপ্তাহ] এসাইনমেন্ট উত্তর ২০২১

Updated: August 4, 2021 — 11:58 am

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *