News

আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বিচার বিভাগের ভূমিকা – পৌরনীতি ৮ম সপ্তাহ এসাইনমেন্ট কাজ

২০২১ সালের এস.এস.সি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের জন্য অষ্টম সপ্তাহের এসাইনমেন্ট এর কাজ প্রকাশ করা হয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এর অফিশিয়াল ওয়েবসাইট থেকে নতুন একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই অ্যাসাইনমেন্ট এর কাজ প্রকাশ করা হলো। আমাদের ওয়েবসাইটে অ্যাসাইনমেন্টের উত্তর এবং কাজ একসাথে প্রকাশ করলাম। নিম্নে আমরা ২০২১ সালে এস.এস.সি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের জন্য পৌরনীতি ও নাগরিকতা বিষয়ের এসাইনমেন্ট এর সমাধান নিয়ে আলোচনা করবো। যে সকল শিক্ষার্থীরা পৌরনীতি ও নাগরিকতা বিষয় এর অ্যাসাইনমেন্ট এর সমাধান পেতে আগ্রহী তারা আমাদের এই পোস্টটি ভালভাবে পড়ুন।

[adToAppearHere]

বিচার বিভাগের সংগঠনঃ 

বাংলাদেশের বিচার বিভাগের সংগঠন কে তিন ভাগে ভাগ করা যায় নিচে এ বিষয়ে আলোচনা করা হলো:

প্রায় সব দেশে বিচার বিভাগের সংগঠন ব্যবস্থার মধ্যে মোটামুটি সাদৃশ্য রয়েছে। ক্ষেত্র বিশেষে পার্থক্য ছাড়া নিম্নরূপ ভাবে বিচার বিভাগ সংগঠিত হয়:

(১) নিম্নস্তরের আদালত− 

এই স্তরে দেওয়ানী ও ফৌজদারী মামলার জন্য পৃথক পৃথক আদালত থাকে। বাংলাদেশে সহকারী জজ ও ম্যাজিস্ট্রেট এর আদালত এমনি ধরনের আদালত।

Top Stories

(২) মধ্যম স্তরের আদালত− 

[adToAppearHere]

এই স্তরেও দেওয়ানী ও ফৌজদারী মামলার জন্য আদালত থাকে। এখানে প্রাথমিকভাবে মামলা দায়ের করা যায়। নিন মেয়ের আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে মধ্যম স্তরের আদালতে আপীল করা যায়।

(৩) উচ্চ আদালত− 

এ আদালত দেশের সর্বোচ্চ আদালত। বিরাট অংকের মূল্য জড়িত মামলা এবং সংবিধানের গুরুতর প্রশ্নজড়িত মামলার প্রথম শুনানী এ আদালতে গ্রহণ করা হয়। তাছাড়া নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধেও এ আদালতে আপীল করা যায়। 

বিচার বিভাগের ক্ষমতাঃ 

[adToAppearHere]

আপিল বিভাগ হাইকোর্ট বিভাগের রায়, ডিক্রি বা দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিল গ্রহণ করে শুনানির ব্যবস্থা করতে পারে। রাষ্ট্রপতি আইনের কোনাে ব্যাখ্যা চাইলে আপিল বিভাগ এ বিষয়ে রাষ্ট্রপতিকে পরামর্শ দিয়ে থাকে। ন্যায়বিচারের স্বার্থে কোনাে ব্যক্তিকে আদালতের সামনে হাজির হতে ও দলিলপত্র পেশ করার আদেশ জারি করতে পারে। আপিল বিভাগ কর্তৃক ঘােষিত আইন হাইকোর্ট বিভাগের জন্য অবশ্যই পালনীয়। নাগরিকের মৌলিক অধিকার রক্ষার জন্য নিষেধাজ্ঞা জারি করতে পারে।

কোনাে ব্যক্তিকে মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী কোনাে কাজ করা থেকে বিরত রাখতে পারে অথবা এ ধরনের কোনাে কাজ করাকে বেআইনি ঘােষণা করতে পারে। অধস্তন কোনাে আদালতের মামলায় সংবিধানের ব্যাখ্যাজনিত জটিলতা দেখা দিলে উক্ত মামলা হাইকোর্টে স্থানান্তর করে মীমাংসা করতে পারে। অধস্তন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল গ্রহণ করে। সকল অধস্তন আদালতের কার্যবিধি প্রণয়ন ও পরিচালনা করে।

বিচার বিভাগের কার্যাবলীঃ

[adToAppearHere]

বিচার বিভাগের কার্যাবলী  নিচে আলোচনা করা হল:

(১) বিচার সংক্রান্ত কাজ− 

বিচার বিভাগের মূল কাজ ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা। এজন্য বিচারকগণ প্রথমে বাদী ও বিবাদীর বক্তব্য শ্রবণ করেন। এরপর সাক্ষ্যগ্রহণ এবং সংশি−ষ্ট আইন অনুযায়ী ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করেন।

(২) আইনের ব্যাখ্যা দান− 

আইনের অপর্যাপ্ততা বা অস্পষ্টতার ক্ষেত্রে বিচারকগণ আইনের ব্যাখ্যাবিশে−ষণ করেন এবং আইনের যথার্থ স্বরূপ নির্ধারণ করেন।

(৩) আইন প্রণয়নমূলক কাজ− 

বিচারকগণ কেবলমাত্র আইনের ব্যাখ্যা দান করেন তাই নয়, তারা আইন প্রণয়নও করেন। কোন কোন সময় আদালতে এমন মামলা উপস্থিত হয় যা প্রচলিত আইন অনুযায়ী বিচার করা যায় না। বিচারকগণ তখন তাদের নিরপেক্ষতার দৃষ্টিকোণ থেকে এবং ব্যক্তিগত বিচারবুদ্ধি অনুযায়ী আইন প্রণয়ন করে বিচার কাজ সম্পাদন করেন।

(৪) সংবিধানের ব্যাখ্যা দান− 

[adToAppearHere]

বিচার বিভাগ সংবিধানের অস্পষ্ট ও পরস্পরবিরোধী ধারার ব্যাখ্যা দান করে সংবিধানের প্রকৃত অর্থ নির্ণয় করে। এছাড়া আইন পরিষদ রচিত আইন, প্রথা বা শাসন বিভাগের নির্দেশ সংবিধানের পরিপন্থী হলে বিচার বিভাগ পর্যালোচনার মাধ্যমে সেগুলিকে সংবিধান বিরোধী বলে ঘোষণা দিয়ে সংবিধানের প্রাধান্য রক্ষা করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিচারপতি হিউজেস যথার্থই মন্তব্য করেছেন, “আমরা একটি সংবিধানের অধীন, কিন্তু বিচারকগণ যাকে সংবিধান বলেন তাই সংবিধান।”

(৫) নাগরিক অধিকার রক্ষা− 

নাগরিক অধিকার রক্ষার জন্য বিচার বিভাগ বিনা অপরাধে গ্রেফতার, আটক ও সরকারের বেআইনী কাজের বিরুদ্ধে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে রিট অব হেবিয়াস কর্পাস, রিট অব ম্যানডামাস ও কোওয়ারেন্টো এবং ইনজাংশান ইত্যাদি রিট ও আদেশ জারি করে থাকে। ফলে ব্যক্তি অধিকার সুরক্ষিত হয়।

(৬) পরামর্শ দান সংক্রান্ত কাজ− 

শাসনতন্ত্র বা আইনের জটিল প্রশ্নে আইন বিভাগ ও শাসন বিভাগ বিচার বিভাগের পরামর্শ চাইলে বিচার বিভাগ সে ব্যাপারে পরামর্শ দিয়ে থাকে।

[adToAppearHere]

(৭) তদন্ত সংক্রান্ত কাজ− 

গুরুতর অন্যায় ও দুর্ঘটনার তদন্তের ভার সাধারণত উচ্চ আদালতের বিচারপতিদের উপর অর্পণ করা হয়। তদন্তের পর বিচারকগণ সংশি−ষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট যথাযথ রিপোর্ট পেশ করেন। 

(৮) শাসন সংক্রান্ত কাজ− 

বিচার বিভাগ ব্যবসায়ীদের লাইসেন্স দান, কিছু কিছু স্থানীয় কর্মচারী নিয়োগ, নাবালকের সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য আমানতদার ও অভিভাবক নিয়োগ, মৃত ব্যক্তির সম্পত্তির প্রশাসন প্রভৃতি শাসন সংক্রান্ত কাজ সম্পাদন করে। 

আইনের শাসন ও বিচার বিভাগঃ 

[adToAppearHere]

বিচার বিভাগের স্বাধীনতার গুরুত্ব অপরিসীম। কেননা বিচার বিভাগ স্বাধীন না হলে গণতান্ত্রিক অধিকারের কোন মূল্য থাকে না। সরকারের স্বৈরাচার রোধেরও কোন ব্যবস্থা থাকে না। অপর পক্ষে ব্যক্তির আক্রমণ থেকে ব্যক্তিকে রক্ষা করা দরকার। এছাড়া সরকারের বিভিন্ন বিভাগ এবং কেন্দ্র ও প্রদেশের মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব মীমাংসার জন্যও একটি স্বাধীন বিচার বিভাগ থাকা দরকার।

সংবিধান রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ দলিল। অন্যান্য সকল আইন সংবিধানের অধীন। সংবিধানের এই সর্বোচ্চ মর্যাদা রক্ষার দায়িত্ব বিচার বিভাগের। সুতরাং ব্যক্তির অধিকার রক্ষা, সরকারের স্বেচ্ছাচারিতা রোধ, সরকারের বিভাগগুলোকে সীমিত রাখা এবং সর্বোপরি সংবিধানের প্রাধান্য রক্ষার জন্য বিচার বিভাগের স্বাধীনতার গুরুত্ব অপরিসীম। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা বলতে বুঝায় আইন বিভাগ ও শাসন বিভাগের নিয়ন্ত্রণমুক্ত অবস্থায় বিচারকদের স্বাধীনভাবে রায় দেওয়ার ক্ষমতা। 

[adToAppearHere]

[adToAppearHere]

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *