News

রকি, ফুজিয়ামা ও ব্লাকফরেষ্ট বাংলাদেশের মধুপুর চত্বর গঠন প্রক্রিয়ার উপর একটি প্রতিবেদন প্রনয়ণ

রকি, ফুজিয়ামা ও ব্লাকফরেষ্ট বাংলাদেশের মধুপুর চত্বর গঠন প্রক্রিয়ার উপর একটি প্রতিবেদন প্রনয়ণ

এসএসসি ভূগোল ও পরিবেশ পঞ্চম সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্টের উত্তর দেখে নেয়া যাক।

উত্তরঃ

২০ আগষ্ট ২০২১

বরাবর,

Top Stories

অধ্যক্ষ/ প্রধান শিক্ষক

(তােমার স্কুলের নাম) স্কুল এ্যান্ড কলেজ।

বিষয়ঃ রকি ফুজিয়ামা ও ব্লাকফরেষ্ট পর্বত এবং বাংলাদেশের মধুপর চত্বর ও বদ্বীপ গঠন প্রক্রিয়ার উপর একটি প্রতিবেদন।

জনাব,

বিনীত নিবেদন এই যে, আপনার আদেশ, যাহার স্মারক নং (আপনার স্কুলের প্রত্যেকটি শব্দের প্রথম অক্ষর নিয়ে জমাদানের তারিখ, মাস ও সাল। দিয়ে স্মারক লিখবে যেমন (তােমাদের স্কুলের প্রথম অক্ষর), ০৫/০৮/২০২১, অনুসারে “রকি ফুজিয়ামা ও ব্রকফরেষ্ট পর্বত এবং বাংলাদেশের মধুপর চত্বর ও ব-দ্বীপ গঠন প্রক্রিয়ার উপর একটি প্রতিবেদনটি নিয়ে বিস্তারিত ভাবে তুলে ধরা হলাে।

ভূপৃষ্ঠের পরিবর্তনের প্রক্রিয়াঃ

ভূপৃষ্ঠের আকস্মিক পরিবর্তনের কারনঃ

আকষ্মিক পরিবর্তন প্রক্রিয়াসমূহ: ভূ-গর্ভস্থ গলিত ম্যাগমাসমূহ ভূ-গর্ভে তাপ ও চাপের তারতম্য এবং অন্যান্য ভূমিরূপ গঠনকারী শক্তির প্রভাবে প্রচন্ড আলােড়িত হয়। এইরূপ আকস্মিক আলােড়নের ফলে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত, ভূ-কম্পন, ভূ-অভ্যন্তরে সংকোচন ও প্রসারণ ইত্যাদি নানা ধরনের পরিবর্তন ঘটে।

ফলে অত্যন্ত আকস্মিকভাবে, স্বল্প সময়ের জন্য, অপেক্ষাকৃত স্বল্প বিস্তৃত স্থান জুড়ে যে ব্যাপক পরিবর্তন সাধিত হয়, তাকে আকস্মিক পরিবর্তন প্রক্রিয়া বলা হয়।অগ্ন্যুৎপাত, ভূমিকম্প, সুনামি ইত্যাদি আকস্মিক পরিবর্তনকারী প্রক্রিয়া। ভূ-আলােড়নের সময়ে অথবা অন্য কোন প্রাকৃতিক কারণে ভূ-পৃষ্ঠের একটি অংশ যখন হঠাৎ কিছুক্ষণের জন্য কেঁপে উঠে, তখন ভূ-ত্বকের এই কম্পনকে ভূমিকম্প বলা হয়। ভূ-গর্ভস্থ যে স্থানে এই কম্পনের সৃষ্টি হয়, তাকে ভূমিকম্পের উৎস স্থল বা কম্পকেন্দ্র বলা হয়।

কম্পকেন্দ্র বরাবর লম্বভাবে ভূপৃষ্ঠের যে বিন্দুটি রয়েছে,তাকে উপকেন্দ্র বলা হয়। সাধারণত ভূ-ত্বকের ৩২ কি.মি. এর মধ্যে ভূমিকম্পের উৎস স্থান থাকলেও কোনাে কোনাে ক্ষেত্রে গভীরতা আরও বেশি হতে পারে। কম্পকেন্দ্র থেকে ভূমিকম্প চারিদিকে ঢেউএর মত ছড়িয়ে পড়ে ভূমিকম্পের কারণসমূহঃ

পৃথিবীর প্রধান ভূমিরূপের বৈশিষ্ট্যঃ

ভূমিরূপ বা ল্যান্ড ফর্ম কে আক্ষরিক অর্থে ভূমির গঠনগত আকৃতিকে বলা হলেও ব্যাপক অর্থে সমগ্র পৃথিবী ব্যাপী অবস্থানরত বিভিন্ন ধরনের ভূমি ভাগের আকৃতি, উচ্চতা, বন্ধুরতা, ঢাল, প্রভৃতি অবয়ব ভূমিরূপ নামে পরিচিত। প্রসঙ্গত অগ্ন্যুৎপাত ভূমিকম্প সূর্যরশ্মি নদ-নদী সমুদ্রস্রোত বাযু হিমবাহ ভূমিরূপ সৃষ্টিতে সক্রিয় ভূমিকা গ্রহণ করে। উদাহরণস্বরূপ পাহাড়-পর্বত, মালভূমি,সমভূমি।

ভূমিরূপকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে যথা পর্বত বা মাউন্টেইন, মালভূমি ও সমভূমি। এই প্রত্যেকটি ভূমিরূপ কে আবার অনেক ভাগে ভাগ করা হয়েছে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১০০০ মিটার বা তারও বেশি উচ্চতাবিশিষ্ট বহুদূর বিস্তৃত শৃঙ্গযুক্ত খাড়া ঢালের শিলাময় স্তুপ পর্বত বা মাউন্টেন নামে পরিচিত। যেমন হিমালয় সাতপুরা ভিসুভিয়াস আরাবল্লী, এই চারটি পর্বত হল পর্বতের বিভিন্ন ভাগের উদাহরণ। পর্বত কে চারটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে যথাঃ ভঙ্গিল পর্বত, স্তুপ পর্বত, আগ্নেয় পর্বত, ক্ষয়জাত পর্বত।

ভঙ্গিল পর্বতঃ ভূপৃষ্ঠের কোমল পাললিক শিলা স্তর গিরিজনি প্রক্রিয়ায় পার্শ্ব চাপে ভাজপ্রাপ্ত হয়ে যে পর্বত সৃষ্টি করে তাকে ভঙ্গিল পর্বত বলে। যেমন হিমালয়, আল্পস, রকি, আন্দিজ, ইত্যাদি।

আগ্নেয় পর্বতঃ প্রবল ভূ আলােড়ন এর ফলে ভূ-অভ্যন্তরের উত্তপ্ত তরল ও বিভিন্ন গ্যাস যুক্ত ম্যাগমা ভূপৃষ্ঠের কোন দুর্বল স্থান কিংবা ফাটল দিয়ে লাভা রূপে নির্গত হয়ে শঙ্কু বাস্তবে নয় যে পর্বত সৃষ্টি করে, তাকে আগ্নেয় পর্বত বলে। প্রসঙ্গত, লাভা সঞ্চয় এর মাধ্যমে আগ্নেয় পর্বত গঠিত হয় বলে, একে সঞ্চয়জাত পর্বত ও বলে। যেমন ভারতের আন্দামান সংলগ্ন ব্যারেন, জাপানের ফুজিয়ামা, ইতালির ভিসুভিয়াস, প্রভৃতি।

আগ্নেয় পর্বতের সৃষ্টি প্রক্রিয়াঃ প্রবল ভূ-আলােড়ন, পাতের সঞ্চালন কিংবা ভূমিকম্পের দ্বারা ভূগর্ভের ৮০১৬০ কিমি গভীরতায় থাকা উত্তপ্ত তরল ও গ্যাসীয় বাষ্প যুক্ত ম্যাগমার চাপের ভারসাম্য নষ্ট হলে সেটি দ্রুত স্থিতিস্থাপকতা হারিয়ে ফেলে। তখন সেই মেঘনা ভূগর্ভের একটি নির্দিষ্ট পথ ধরে ভূপৃষ্ঠস্থ দুর্বল স্থান কিংবা ফাটলের মধ্যে দিয়ে ধীর গতিতে কিংবা বিস্ফোরণের দ্বারা ছাই ভস্ম কিংবা ছােট ছােট আগ্নেয় পদার্থের টুকরাের সমন্বয় এ ভূপৃষ্ঠের বাইরে সঞ্চিত হয়ে আগ্নেয় পর্বত সৃষ্টি করে।

সমভূমিঃ

সমুদ্রপৃষ্ঠের একই সমতলে বা সামান্য উঁচুতে, তবে ৩০০ মিটারের কম উঁচুতে অবস্থিত প্রায় সমতল সমতল বিস্তীর্ণ স্থলভাগকে সমভূমি বলে। যেমন ভারতের গঙ্গা নদী বিধৌত সমভূমি অঞ্চল, রাশিয়ার সাইবেরিয়ান সমভূমি।
 
১) পলি গঠিত সমভূমিঃ বন্যার সময় নদীর মধ্য ও নিম্নগতিতে নদীর উভয় পার্শ্বে পলি বালি কাঁকর ইত্যাদি সঞ্চিত হয়ে যে সমভূমি গঠন করে তাকে পলি গঠিত সমভূমি বলে। বর্ষাকালে নদীর দু’কূল ছাপিয়ে বন্যার সৃষ্টি হলে বন্যার জলের সঙ্গে বাহিত পলি, বালি, নুড়ি কাঁকর, কাঁদা উভয় তীরের নিম্নভূমিতে সঞ্চিত হয়। বছরের পর বছর এইভাবে পলি সঞ্চিত হয়ে নিচু জায়গা ভরাট হয়ে উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়ে সমভূমি তে পরিণত হয়। যেমন গাঙ্গেয় সমভূমি, ব্রহ্মপুত্র সমভূমি প্রভৃতি।
 
২) লােয়েস সমভূমিঃ মরুভূমির বালি বায়ুপ্রবাহের দ্বারা বহুদূর উঠে গিয়ে সঞ্চিত হয়ে যে সমভূমি সৃষ্টি হয় তাকে লােয়েস সমভূমি বলে। লােয়েস শব্দের অর্থ সূক্ষ্ম পলি বা স্থানচ্যুত বস্তুকণা। সাধারণত ০.০৫ মিলিমিটারের কম ব্যাস যুক্ত বালিকণা সহজেই প্রবল বায়ু প্রবাহের সঙ্গে বাহিত হয়। এই বাযুর গতি কমে গেলে বা বাযু বৃষ্টিপাতের সম্মুখীন হলে বাযুস্থিত বালিকণা অবক্ষিপ্ত হয় এবং লােয়েস সমভূমি গড়ে ওঠে। যেমন মধ্য এশিয়ার গােবি মরুভূমি বালি উড়ে গিয়ে চীনের হােয়াংহাে নদী অববাহিকায় সঞ্চিত হয় লােয়েস সমভূমি গড়ে উঠেছে।
 
৩) লাভা সমভূমিঃ ভূপৃষ্ঠের কোন নিম্ন অংশে ক্রমাগত লাভা সঞ্চিত হয়ে যে সমতল ভূমির সৃষ্টি হয় তাকে লাভা সমভূমি বলে। ভূত্বকের কোন দুর্বল অংশ বা ফাটল দিয়ে ভূগর্ভের উত্তপ্ত ম্যাগমা ভূপৃষ্ঠের বাইরে বেরিয়ে এসে লাভা রূপে শীতল ও কঠিন হয়ে সঞ্চিত হয়। এইভাবে ক্রমাগত লাভা সঞ্চয়ের ফলে লাভা সমভূমি গড়ে উঠেছে। যেমন ভারতের দাক্ষিণাত্য মালভূমির উত্তরে মালব সমভূমি।
 
৪) বদ্বীপ সমভূমিঃ নদীর মােহনায় অতিরিক্ত পলি সঞ্চিত হয় মাত্রাহীন ব আকৃতির সমভূমি গড়ে ওঠে। যেমন গঙ্গা নদীর মােহনায় সৃষ্ট বদ্বীপ সমভূমি।
 
৫) হ্রদ সমভূমির সৃষ্টিঃ কোন নদীবাহিত নুড়ি, বালি, কাদা, পলি হ্রদে সঞ্চিত হয়ে হ্রদ ভরাট হয়ে গেলে হ্রদ সমভূমি গঠিত হয়। যেমন উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার তাল সমভূমি অঞ্চল।
 
৬) হিমবাহ সমভূমিঃ হিমবাহের দ্বারা সঞ্চিত নুড়ি , কাকর জমে এই প্রকার সমভূমি সৃষ্টি হয়। যেমন উত্তর আমেরিকার প্রেইরি সমভূমি।
 
৭) ক্ষয়জাত সমভূমিঃ নিচু মালভূমি বা পার্বত্য অঞ্চল বহু বছর ধরে বিভিন্ন প্রাকৃতিক শক্তি দ্বারা ক্ষয়প্রাপ্ত হয় সমপ্ৰায় ভূমি সৃষ্টি করে। যেমন ভারতের ছােটনাগপুর মালভূমির কিছু কিছু অংশ।
প্রতিবেদকের নামঃ (নিজের নাম লিখবেন)
প্রতিবেদকের ঠিকানাঃ (নিজের ঠিকানা লিখবেন)।
প্রতিবেদনের সময়ঃ সকাল ১০ টা তারিখঃ
সমাধান ২:

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *