News

রাশিয়া ও ইউক্রেন এ হামলার আপডেট নিউজ দেখুন ভিডিওতে সরাসরি

সাম্প্রতিক ইতিহাস বিবেচনায় নিলে চলমান সংকটের সূত্রপাত ২০১৪ সালে। তবে এই সংকটের মূলে যেতে ফিরে তাকাতে হবে সোভিয়েত আমলে। তখন সোভিয়েত ইউনিয়নের অংশ ছিল ইউক্রেন। ইউক্রেনে দুটি রাজনৈতিক ধারা প্রবল। একটি ধারা পশ্চিম ইউরোপের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হতে চায়। তারা ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) যোগ দেওয়ার পাশাপাশি পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর সদস্য হতে আগ্রহী। অপর ধারাটি রুশপন্থী। তারা রাশিয়ার বলয়ে থাকতে চায়। ইউক্রেনের জনসংখ্যার একটা বড় অংশ রুশভাষী। তারা জাতিগতভাবেও রুশ। রাশিয়ার সঙ্গে তাদের সাংস্কৃতিক-সামাজিক ঘনিষ্ঠতা আছে। বিক্ষোভের মুখে ২০১৪ সালে ইউক্রেনের রুশপন্থী প্রেসিডেন্ট ভিক্টর ইয়ানুকোভিচের পতন হয়। তিনি দেশ ছেড়ে পালান।

পূর্ব ইউক্রেনের রুশপন্থী বিচ্ছিন্নতাবাদী-নিয়ন্ত্রিত দনবাস অঞ্চলে সামরিক অভিযানের ঘোষণা দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ২৪ ফেব্রুয়ারি এই ঘোষণা দেন তিনি। একই সঙ্গে পুতিন পূর্ব ইউক্রেনে থাকা ইউক্রেনের সেনাদের অস্ত্র ত্যাগ করে ঘরে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, তাঁর দেশ আক্রমণের মধ্য দিয়ে রাশিয়া আগামী দিনগুলোয় ইউরোপে একটি বড় যুদ্ধের সূচনা করতে পারে।

কেন ক্রিমিয়া দখল চায় রাশিয়া?

প্রায় ২০০ বছর ধরে রাশিয়ার অংশ ছিল ক্রিমিয়া। ১৯৫৪ সালে সোভিয়েত নেতা নিকিতা ক্রুশ্চেভ তৎকালীন সোভিয়েত প্রজাতন্ত্র ইউক্রেনের কাছে ক্রিমিয়া হস্তান্তর করেন। তখন রুশ নেতৃত্ব ভাবতে পারেনি যে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন হবে।

Top Stories

ক্রিমিয়ার ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব অনেক। কৌশলগত কারণে রাশিয়ার কাছে ক্রিমিয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই সুযোগ পেয়ে ইউক্রেনের কাছ থেকে ক্রিমিয়া দখল করে নেয় রাশিয়া।

Live Video Link Here Just Click

রাশিয়ার গ্যাস কেন বড় ইস্যু

সমরাস্ত্র ছাড়া রাশিয়ার একটি বড় হাতিয়ার হলো তার জ্বালানি। ইউরোপের মোট তেল-গ্যাস সরবরাহের ২৫ শতাংশ যায় রাশিয়া থেকে।

ইউরোপে গ্যাস সরবরাহে রাশিয়ার প্রবেশদ্বার ইউক্রেন। রাশিয়া থেকে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে প্রধান গ্যাস পাইপলাইনগুলো ইউক্রেনের ভেতর দিয়ে গেছে। ফলে ইউক্রেন যদি রাশিয়ার প্রভাববলয়ের বাইরে চলে যায়, তাহলে গ্যাস সরবরাহের ক্ষেত্রে রাশিয়া তার একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ হারাতে পারে।

ন্যাটো কি ঐক্যবদ্ধ

প্রেসিডেন্ট বাইডেন বলেছেন, ইউক্রেন প্রশ্নে পশ্চিমা নেতারা ঐক্যবদ্ধ। তবে ইউক্রেনের ব্যাপারে বিভিন্ন দেশের সমর্থনে পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনে প্রাণঘাতী সামরিক সরঞ্জাম পাঠিয়েছে। যুক্তরাজ্য স্বল্পমাত্রার ট্যাংক-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র দিচ্ছে। ডেনমার্ক, স্পেন, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডসের মতো ন্যাটো দেশ পূর্ব ইউরোপে প্রতিরক্ষা জোরালো করেছে।  তবে ইউক্রেনের অনুরোধ সত্ত্বেও দেশটিকে কোনো অস্ত্র দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে জার্মানি। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁকে উত্তেজনা প্রশমনে জোর তৎপরতা চালাতে দেখা গেছে।

পুতিনের সঙ্গে কথা বলতে পারেন মোদী

রাষ্ট্রসংঘের আর্জি উপেক্ষা করে ইউক্রেনে ‘সামরিক অভিযানের’ ঘোষণা করেছে রাশিয়া। তারপরই রাজধানী কিয়েভ, ওডেসা-সহ ইউক্রেনের একাধিক জায়গায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে। তারইমধ্যে আমেরিকা-সহ পশ্চিমী দুনিয়াকে হুঁশিয়ারি দিয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জানিয়েছেন, যে দেশ সেই ‘সামরিক অভিযানে’ হস্তক্ষেপ করবে, তাদের ফল ভুগতে হবে। পালটা আমেরিকাও হুঁশিয়ারি দিয়েছে, রাশিয়ার ‘সামরিক অভিযানের’ জবাব দেওয়া হবে।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে কথা বলতে পারেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সূত্র উদ্ধৃত করে একথা জানিয়েছে সংবাদসংস্থা এএনআই।

আরআইএ সংবাদসংস্থাকে উদ্ধৃত করে ‘হিন্দুস্তান টাইমস’ গ্রুপের ‘লাইভ মিন্ট’ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার ইউক্রেনের ৭৪ টি প্রতিরক্ষা কাঠামো ধ্বংস করেছে বলে দাবি করেছে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রক।

Click Here To Watch LIVE Video Now

‘পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর’, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ ভারতের

রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে যে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারত। যদি এখনই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আনার চেষ্টা করা হয়, তাহলে অবস্থা আরও সঙ্কটজনক হতে পারে। এমনটাই বলা হল ভারতের তরফে। ইতিমধ্যেই ইউক্রেনে (Ukraine) মিলিটারি অপারেশন চালানো হবে বলে ঘোষণা করেছেন রাশিয়া(Russia)-র প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন (Vladimir Putin)। আর ভারতের দাবি, রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে সামরিক সংঘাত বাড়লে ধাক্কা খাবে শান্তি ও নিরাপত্তা। রাষ্ট্রসঙ্ঘে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি টিএস ত্রিমূর্তি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, ‘বড়সড় সঙ্কট তৈরি করতে চলেছে রাশিয়া ও ইউক্রেনের পরিস্থিতি।’

রাষ্ট্রসঙ্ঘে ত্রিমূর্তি বলেন, ‘পরিস্থিতি বিপজ্জনক। তৈরি হতে পারে বড়সড় সঙ্কট। বিঘ্নিত হতে পারে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও শান্তি।’ দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার আর্জি জানিয়েছেন তিনি। পরিস্থিতি যাতে আরও খারাপের দিকে না যায়, সে বিষয়েও বার্তা দিয়েছে ভারত।

শান্তি বজায় রাখা কতটা জরুরি সে কথা মনে করিয়ে দিয়ে ত্রিমূর্তি উল্লেখ করেছেন, কূটনৈতিক স্তরে আলোচনার মাধ্যমেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা প্রয়োজন। তিনি আরও জানিয়েছেন, ভারতীয় নাগরিকদের ইউক্রেন থেকে অবিলম্বে দেশে ফেরাতে সাহায্য করা হচ্ছে।

ইতিমধ্যেই দুটি এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান ভারতে ফিরেছে নাগরিকদের নিয়ে। তবে এখনও কয়েক হাজার ভারতীয় ইউক্রেনে আটকে রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। সোমবারই রাষ্ট্রপুঞ্জের বৈঠকে ভারতের তরফে জানানো হয়েছে, সীমান্তবর্তী এলাকা সহ ইউক্রেনে প্রায় ২০ হাজার ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন বর্তমানে। এদের মধ্যে বেশির ভাগই পড়ুয়া। তাঁদের সুরক্ষা এবং নিরাপত্তাই ভারতের কাছে অগ্রাধিকার পাবে বলেও জানানো হয়েছে।

গত সপ্তাহেই বিদেশমন্ত্রকের তরফে জানানো হয়, ইউক্রেনের সঙ্গে এয়ার বাবল চুক্তি শিথিল করা হয়েছে। দেশের উড়ান সংস্থাগুলি চাহিদা অনুযায়ী বিমানের ব্যবস্থাও করতে পারে। ইউক্রেনে বসবাসকারী ভারতীয়দেরও চার্টার্ড বা যাত্রীবাহী সাধারণ বিমানে দ্রুত দেশে ফিরে আসার অনুরোেধ জানানো হয়েছে। সাহায্যের জন্য বিদেশমন্ত্রকের তরফে একটি বিশেষ কন্ট্রোল রুমও খোলা হয়েছেে।

উল্লেখ্য বৃহস্পতিবার রাশিয়ার স্থানীয় সময় ভোর ৬টা নাগাদ রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জানিয়েছেন, ইউক্রেনে মিলিটারি অপারেশন চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাঁর এই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে কার্যত বেজে গিয়েছে যুদ্ধের দামামা। পুতিন এও জানান যে, রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধ কোনওভাবেই এড়ানো সম্ভব নয়। সূত্রের খবর, ইউক্রেনের ডনবাসে ইতিমধ্যেই সেনা অভিযান শুরুও করে দিয়েছে মস্কো। জায়গায় জায়গায় চলছে মিসাইল হামলা। ইউক্রেনের সমস্ত বিমান পরিষেবাও বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। বিপর্যস্ত হয়েছে মোবাইল সংযোগ ব্যবস্থাও।

রাশিয়াকে কি চীন উদ্ধার করতে পারবে?

ইউক্রেন সংকট নিয়ে পশ্চিমাদের নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছে রাশিয়া। পশ্চিমাদের সঙ্গে দূরত্বের মধ্যে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার হয়েছে মস্কোর। ইউক্রেন সংকট শুরুর আগেই বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে মস্কোর পাশে থাকার বিষয়ে আশ্বস্ত করা হয়েছিল। এখন পশ্চিমাদের নিষেধাজ্ঞার মুখেও রাশিয়ার জন্য সুর চড়া করেনি বেইজিং। যুক্তরাষ্ট্রসহ ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশ পূর্ব ইউক্রেনের রুশপন্থী বিদ্রোহীদের দুই অঞ্চল দোনেৎস্ক ও লুহানস্ককে ‘স্বাধীন প্রজাতন্ত্র’ হিসেবে পুতিনের স্বীকৃতির নিন্দা জানালেও চীন এ বিষয়ে চুপ। বলেছে, ইউক্রেন সংকট নিরসনে কূটনৈতিক সমাধানকে স্বাগত জানাবে বেইজিং।

জাতিসংঘে চীনের প্রতিনিধি গত সোমবার ‘সব পক্ষকে’ সংযত হতে ও ‘উত্তেজনা বৃদ্ধি’ এড়িয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ডাকা এক জরুরি বৈঠকে চীনের প্রতিনিধি জ্যাং জুন বলেন, কূটনৈতিক সমাধানকে বেইজিং স্বাগত জানাবে এবং উৎসাহিত করবে। তিনি বলেন, সব ধরনের উদ্বেগকে ‘সমতার ভিত্তিতে’ দেখা উচিত।

ইউক্রেনকে কেউ কেড়ে নিতে পারবে না

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *