events

কত বছর বয়সে শেখ মুজিব চোখের গ্লুকোমা রোগে আক্রান্ত হন?

শেখ মুজিব চোখের গ্লুকোমা রোগে আক্রান্ত হন ১৬ বছর বয়সে।

১৬ বছর বয়স থেকে কিশোর মুজিবুরের চশমা পরা। তিন বছর খেলাধুলা ও পড়াশোনা বন্ধ থাকল।
১৪ বছর বয়সে সুস্থ-সবল কিশোর মুজিবুরের পা হঠাৎ ফুলে যেতে থাকে। প্রায়ই বমি বমি ভাব ও শরীরে তীব্র ব্যথা সৃষ্টি হয়। হাতে-পায়ে বোধশক্তি হ্রাস পায় এবং হূৎপিণ্ডের গতি বেড়ে যায়। প্রাণচঞ্চল ফুটবল মাঠের চমক মুজিব ভয়ানকভাবে অসুস্থ হয়ে খেলাধুলা ও পড়াশোনা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়। শয্যাশায়ী মুজিবুরের অনেক পরীক্ষা করে কলকাতার ডাক্তার শিবপদ ভট্টাচার্য এবং ডা. এ কে রায় চৌধুরী রোগ নির্ণয় করেন।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদ্বয় স্থির করলেন, আতপ চালের পায়েশের প্রতি অতিরিক্ত আকর্ষণের নিমিত্তে এবং খাদ্যে ভিটামিন বি-১ অভাবজনিত কারণে বেরি বেরি রোগ হয়েছে। ভিটামিন ইনজেকশন দিয়ে চিকিৎসা শুরু হলো এবং খাদ্য স্থির হলো নিয়মিত কেবল ঢেঁকিভাঙা চালের ভাত, ছোট মাছ এবং প্রচুর মটরশুঁটি ও শাকসবজি। বেরি বেরি রোগ থেকে কিশোর মুজিব সুস্থ হলো; কিন্তু চোখের দৃষ্টি বিভ্রাট হলো, গ্লুকোমা নির্ণীত হলো, অপারেশন করলেন কলকাতার প্রখ্যাত চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. টি আহমেদ

১৭ মার্চ ১৯২০ বুধবার সবে ফজরের নামাজ শেষ হয়েছে। ফরিদপুর জেলার গোপালগঞ্জ মহকুমার মধুমতী নদীর পাড়ে টুঙ্গিপাড়া গ্রামে শেখ বংশের পরিত্যক্ত ‘বিষাক্ত সর্পকুল আশ্রিত দালানের’ পাশের টিনের বাড়ি থেকে এক বয়স্ক গ্রাম্য দাই হঠাৎ ছুটে এসে বললেন, ‘লুৎফর, তোর একটা খোকা হয়েছে, আজান দে।’ শেখ লুৎফর রহমানের চাচাতো ভাই খান সাহেব শেখ আবদুর রশিদের কিশোর ছেলে শেখ মোশাররফ হোসেন আজান দিয়ে সবাইকে জানাল খুশির খবর। তার ভাবি সায়েরা খাতুন দুই কন্যার পর প্রথম পুত্রসন্তান প্রসব করেছেন। নবজাতকের নাম স্থির হলো ফরিদপুরের গৌরব কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের মাস্টার্সে অঙ্কের রেকর্ড ভঙ্গকারী অবিশ্বাস্য মেধার অধিকারী মুসলমান ছাত্র আবুল ফজল মুজিবুর রহমানের নামানুসারে শেখ মুজিবুর রহমান। এ এফ মুজিবুর রহমানের অঙ্কের রেকর্ড কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে আজও বহাল। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিস্মিত উপাচার্য স্যার আশুতোষ মুখার্জির সাহায্য ও সহযোগিতায় এ এফ মুজিবুর রহমান ১৯১৯ সালে ইংল্যান্ড যান এবং আইসিএস পরীক্ষায় সফল হয়ে পরের বছর ভারতে ফিরে আসেন।

১৪ বছর বয়সে সুস্থ-সবল কিশোর মুজিবুরের পা হঠাৎ ফুলে যেতে থাকে। প্রায়ই বমি বমি ভাব ও শরীরে তীব্র ব্যথা সৃষ্টি হয়। হাতে-পায়ে বোধশক্তি হ্রাস পায় এবং হূৎপিণ্ডের গতি বেড়ে যায়। প্রাণচঞ্চল ফুটবল মাঠের চমক মুজিব ভয়ানকভাবে অসুস্থ হয়ে খেলাধুলা ও পড়াশোনা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়। শয্যাশায়ী মুজিবুরের অনেক পরীক্ষা করে কলকাতার ডাক্তার শিবপদ ভট্টাচার্য এবং ডা. এ কে রায় চৌধুরী রোগ নির্ণয় করেন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদ্বয় স্থির করলেন, আতপ চালের পায়েশের প্রতি অতিরিক্ত আকর্ষণের নিমিত্তে এবং খাদ্যে ভিটামিন বি-১ অভাবজনিত কারণে বেরি বেরি রোগ হয়েছে। ভিটামিন ইনজেকশন দিয়ে চিকিৎসা শুরু হলো এবং খাদ্য স্থির হলো নিয়মিত কেবল ঢেঁকিভাঙা চালের ভাত, ছোট মাছ এবং প্রচুর মটরশুঁটি ও শাকসবজি। বেরি বেরি রোগ থেকে কিশোর মুজিব সুস্থ হলো; কিন্তু চোখের দৃষ্টি বিভ্রাট হলো, গ্লুকোমা নির্ণীত হলো, অপারেশন করলেন কলকাতার প্রখ্যাত চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. টি আহমেদ। ১৬ বছর বয়স থেকে কিশোর মুজিবুরের চশমা পরা। তিন বছর খেলাধুলা ও পড়াশোনা বন্ধ থাকল। কয়েক বছর ভালো কাটলেও ম্যাট্রিক পরীক্ষার ঠিক একদিন পূর্বে ভয়ানক জ্বর হলো ১০৪ ডিগ্রি, মামস্‌ হয়ে গলা ফুলে গেল, অসহনীয় মাথাব্যথা ও চক্ষু জ্বালা; পরীক্ষা খারাপ হলো। কলকাতায় ইসলামিয়া কলেজে অধ্যয়নকালে ১৯৪৫ সালে দিল্লিতে অল ইন্ডিয়া মুসলিম লীগ সম্মেলনে যোগ দিতে গিয়ে তরুণ শেখ মুজিব বুকে, পেটে ও সমস্ত শরীরে অসহ্য বেদনায় আক্রান্ত হন, তিন দিন পায়খানা হয়নি। হেকিম আজমল খান বিদ্যালয়ের একজন হেকিমের জোলাপে দ্রুত সুস্থ হয়ে কলকাতায় বেকার হোস্টেলে ফিরে আসেন। এসব বিবরণ আমরা অসমাপ্ত আত্মজীবনীতে পাই।

Top Stories

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *