News

যুক্তিবিদ্যা বিজ্ঞান ও কলা উভয়ই ধারণাটির যথার্থতা যাচাই – HSC/এইচএসসি ২০২১ যুক্তিবিদ্যা

যুক্তিবিদ্যা একটি বিজ্ঞান, না একটি কলা, না উভয়ইঃ যুক্তিবিদ্যা একটি বিজ্ঞান , না একটি কলা, না উভয়ই-এ প্রশ্ন নিয়ে যুক্তিবিদদের মধ্যে মতোবিরোধ দেখা যায়। এ বিষয়ে তাদের মতবাদকে মোটামুটি তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথাঃ

( ক ) বিজ্ঞান হিসাবে যুক্তিবিদ্যাঃ

[adToAppearHere]

বিজ্ঞান হিসাবে যুক্তিবিদ্যাকে মূল্যায়ন করার আগে একটি বিষয় পরিষ্কার হওয়া দরকার যে, কোন একটি জ্ঞানের শাখাকে বিজ্ঞান বলতে গেলে তার মধ্যে কমপক্ষে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট থাকা দরকার। প্রথমত, সেই শাখার নির্ধারিত ও সুশৃখল আলোচ্য বিষয় থাকতে হবে এবং দ্বিতীয়ত, আলোচ্য বিষয় ব্যাখ্যার জন্য পর্যাপ্ত নিয়ম-কানুন প্রণয়ন করতে হবে। এ দুটি শর্তের বিচারে বলা যায় যে, অন্যান্য বিজ্ঞানের মত যুক্তিবিদ্যার কিছু নিদিষ্ট আলোচ্য বিষয় আছে; যেমন-যুক্তিপদ্ধতি ও তার সহায়ক প্রক্রিয়াসমূহ।

আবার এসব বিষয়বস্তু ব্যাখ্যার জন্য যুক্তিবিদ্যা নিজস্বভাবে কিছু নিয়ম- কানুন প্রণয়ন করেছে। কাজেই অন্যান্য বিজ্ঞানের মতই যুক্তিবিদ্যাকেও একটি বিজ্ঞান বলা যেতে পারে। এ প্রসঙ্গে হ্যামিলটন, ম্যানসেল, টমসন প্রমুখ যুক্তিবিদগন মনে করেন যে, “যুক্তিবিদ্যা শুধুমাত্র বিজ্ঞান।”

Top Stories

[adToAppearHere]

তাদের মতে, যুক্তিবিদ্যার কাজ হলো যথার্থ যুক্তিপদ্ধতির নিয়ম- কানুন সম্বন্ধে জ্ঞান দান করা, অন্য কিছু নয়। যুক্তিবিদ যোসেফ ও যুক্তিবিদ্যাকে একটি বিজ্ঞান বলে প্রচার করেছেন। তার মতে, “যুক্তিবিদ্যা হলো একটি বিজ্ঞান যা এমন কতকগুলো সাধারণ নীতিমালা নিয়ে আলোচনা করে যাদের সাহায্য নিয়ে আমরা যে কোন ধরনের বস্তু বা বিষয় সম্পর্কে চিন্তা করতে পারি।”

( খ ) কলা হিসাবে যুক্তিবিদ্যাঃ

[adToAppearHere]

কলা হিসাবে যুক্তিবিদ্যাকে মূল্যায়ন করার আগে আমাদের জানা দরকার যে, কোন একটি বিষয়কে কলাবিদ্যা বলে পরিচিত হতে হলে তাকে অন্তত দু’টি শর্ত পালন করতে হবে। প্রথমত, সেই বিদ্যাকে বিশেষ কোন কর্ম সম্পাদনের কলাকৌশল শিক্ষা দিতে হবে এবং দ্বিতীয়ত, তাকে কোন বৈজ্ঞানিক জ্ঞানের উপর নির্ভরশীল হতে হবে। এ দু’টি শর্তের বিচারে বলা যায় যে, যুক্তিবিদ্যা যুক্তিপদ্ধতির নিয়মাবলীকে আমাদের বাস্তব চিন্তাক্ষেত্রে প্রয়োগ করার কলাকৌশল শিক্ষা দেয়। তাছাড়া,

যুক্তিবিদ্যা যে কলা-কৌশল শিক্ষা দেয় তা বিজ্ঞানসম্মত চিন্তধারার উপর নির্ভরশীল কাজেই অন্যান্য কলাবিদ্যার মত যুক্তিবিদ্যাকে একটি কলাবিদ্যা বলা যেতে পারে। এ প্রসঙ্গে অলড্রিচ ও অন্যান্য পোর্ রয়াল যুক্তিবিদেরা মনে করেন
যে যুক্তিবিদ্যা শুধুমাত্র একটি কলাবিদ্যা। তাদের মতে যুক্তিবিদ্যা যুক্তির নিয়মাবলীকে আমাদের বাস্তব চিন্তাক্ষেত্রে প্রয়োগ করে কিভাবে সত্যকে অর্জন করা যায় সে সম্বন্ধে নির্দেশ দান করে। অথাৎ যুক্তিপদ্ধতির নিয়মাবলী ব্যবহারিক ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা যুক্তিবিদ্যার উদ্দেশ্য।

( গ ) বিজ্ঞান ও কলাবিদ্যা হিসাবে যুক্তিবিদ্যাঃ

[adToAppearHere]

উপরোক্ত আলোচনায় দেখা যায় যে, দু’টি মতবাদই পক্ষপাত দোষে দুষ্ট। সে জন্য এদের কোনটিই গ্রহণযোগ্য নয়। তাই যুক্তিবিদ মিল এবং হোয়েটলি দু’টি বিরোধী মতবাদের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে বলেন যে যুক্তিবিদা শুধুমাত্র একটি বিজ্ঞান নয়, আবার শুধুমাত্র একটি কলাও নয়। বরং যুক্তিবিদ্যা একাধারে একটি বিজ্ঞান ও একটি কলা। বিজ্ঞান হিসাবে যুক্তিবিদ্যা সঠিক
যুক্তিপদ্ধতির নিয়ম-কানুন সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান দান করে। আবার কলা হিসাবে যুক্তিবিদ্যা এসব নিয়মকে আমাদের বাস্তব চিন্তাক্ষেত্রে সুষ্ঠুভাবে প্রয়োগে মাধ্যমে সত্যতাকে আবিষ্কার করতে সহায়তা করে। যুক্তিবিদ কার্ভেথ রীডও একইভাবে যুক্তিবিদ্যাকে বিজ্ঞান ও কলা উভয়রূপে আখ্যায়িত করেছেন। তার মতে যুক্তিবিদ্যার মধ্যে বিজ্ঞান ও কলা উভয় বিভাগেরই গুণাগুণ বর্তমান আছে।

উপসংহারঃ উপরোক্ত আলোচনার পরিপেক্ষিতে আমরা মিল ও হোয়েটলি মতের সঙ্গে একমত হয়ে একথা বলতে পারি যে,
যুক্তিবিদ্যা যেমন একাধারে একটি বিজ্ঞান তেমনি একটি কলাবিদ্যাও বটে। এ প্রসঙ্গে ডান্স সেকাটাস (Duns Scotus) বলেন, যুক্তিবিদ্যা হলো Science of sciences এবং Art of arts।

অর্থাৎ, যুক্তিবিদ্যা হলো বিজ্ঞানসমূহের বিজ্ঞান ও কলাবিদ্যাসমূহের কলাবিদ্যা। এর অর্থ হলো, সব বিজ্ঞান ও কলাবিদ্যার মাঝেই যুক্তিবিদ্যার পরিধি বিস্তৃত।

[adToAppearHere]

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *