সম্প্রতি সংঘটিত বিশ্বের কয়েকটি দেশের বড় ধরনের ভূমিকম্পের কারণ, উৎস ও ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে তালিকা প্রস্তুত কর

2022 সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় এসাইনমেন্ট কাজ ইতিমধ্যেই প্রকাশ করা হয়েছে। প্রিয় শিক্ষার্থী আপনি যদি দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী হয়ে থাকেন এবং 2022 সালে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবেন তাহলে এই পোষ্ট টি আপনার জন্য প্রযোজ্য। কেননা এখানে আমরা 2022 সালের পরীক্ষার্থীদের এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের লক্ষ্যে অ্যাসাইনমেন্ট কাজের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের এসার্মেন্ট কাজ দেখাবো।

৪র্থ অধ্যায়ে বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতি ও জলবায়ু

অ্যাসাইনমেন্ট কাজ:


সম্প্রতি সংঘটিত বিশ্বের কয়েকটি দেশের বড় ধরনের ভূমিকম্পের কারণ, উৎস ও ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে তালিকা প্রস্তুত কর। বাংলাদেশ এ ধরণের কোন ভূমিকম্প সংঘটিত হলে এবং বিপুল ক্ষতি হলে সেক্ষেত্রে স্বেচ্ছাসেবক হিসাবে তোমার করণীয় সম্পর্কে একটি প্রতিবেদন তৈরি কর।
শিখনফল/ বিষয়বস্তু:

ভূমিকম্পের ধারনা ব্যাখ্যা করতে পারবে।

ভূমিকম্পের কারণ ব্যাখ্যা করতে পারবে।

ভূমিকম্পের ফলাফল ব্যাখ্যা করতে পারবে।

ভূমিকম্প ঝুঁকি মোকাবেলায় বাংলাদেশের প্রস্তুতি ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ ব্যাখ্যা করতে পারবে।

ভূমিকম্প-পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবেলায় সহযোগিতার মনোভাব তৈরি করবে।


নির্দেশনা (সংকেত/ ধাপ/ পরিধি):

সূচনা

যেকোনো চারটি দেশের ভূমিকম্পের কারণ ও উৎস উল্লেখ করবে।

ওই ৪টি দেশের ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতির তালিকা করবে (চিত্রসহ)।

বাংলাদেশের মানচিত্র অঙ্কন করে ভূমিকম্প প্রবণ এলাকা চিহ্নিত করবে।

স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে তোমার করণীয় (পাঠ্যপুস্তক, ইন্টারনেট, সংবাদমাধ্যম, বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করবে।)

প্রতিবেদনের ধাপ অনুসরণ করে ৪০০ শব্দের মধ্যে প্রতিবেদন প্রণয়ন করতে হবে।

সম্প্রতি সংঘটিত বিশ্বের কয়েকটি দেশের বড় ধরনের ভূমিকম্পের কারণ, উৎস ও ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে তালিকা প্রস্তুত কর

Table of Contents

সূচনাঃ

ভূমিকম্প একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ। পৃথিবীর বহু দেশে এবং বহু অঞ্চলে এই প্রবণতা লক্ষ করা যায়। সভ্যতার বহু ধ্বংসলীলার কারণ হিসেবে ভূমিকম্পকে দায়ী করা হয়। ধারণা করা হয়, গত ৪ হাজার বছরের ভূমিকম্পের ধ্বংসলীলায় পৃথিবীর প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ লোক মারা গেছে।

যেকোনো চারটি দেশের ভূমিকম্পের কারণ ও উৎস

ভূমিকম্পের কারণঃ

>কারণ অনুসন্ধান করে বিজ্ঞানীরা লক্ষ্য করেন পৃথিবীর বিশেষ কিছু এলাকায় ভূকম্পন বেশি হয়। এ সমস্ত এলাকায় নবীন পর্বতমালা অবস্থিত। তাদের মতে ভিত্তিশীল এক চ্যুতি বা ফাটল বরাবর আকর্ষণে ভূ-আলোড়ন হলে ভূমিকম্প হয়।

>এছাড়া আগ্নেয়গিরির লাভা প্রচন্ড শক্তিতে ভূ-অভ্যন্তর থেকে বের হয়ে আসার সময় ভূমিকম্পের সৃষ্টি হয়। ভূ -তাপ তাপ বিকিরণ করে সংকুচিত হলে ভূ-নিম্নস্থ শিলাস্তরের সমান্তর ফাটলের সৃষ্টির ফলে ভূ-কম্পন অনুভূত হয়।

ভূ- আলোড়ন এর ফলে ভূত্বকের কোন স্থানের শিলা ধসে পড়লে বা শিলাচ্যুতি ঘটলে ভূমিকম্প হয়। এছাড়াও পাশাপাশি অবস্থানরত দুটি প্লেটের একটি অপরটির সীমানা বরাবর তলদেশে ঢুকে পড়ে অথবা অনুভূমিকভাবে আগে পিছে সরে যায়।

প্লেট সমূহের সংঘর্ষের ফলে ভূত্বকে যে ফাটল সৃষ্টি হয় তা ভূমিকম্প ঘটিয়ে থাকে।

ভূ-অভ্যন্তরে বা ভূ-ত্বকের নিচে ম্যাগমার সঞ্চারণ অথবা চ্যুতি রেখা বরাবর চাপমুক্ত হওয়ার কারণে ভূমিকম্প হয়ে থাকে।

চিলি, ভূমিকম্পের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতিঃ

২২ মে ১৯৬০ : মাত্রা—৯ দশমিক ৫, এটাকেই এখন পর্যন্ত বলা হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় মাত্রার ভূমিকম্প। রিখটার স্কেলে ৯ দশমিক ৫ মাত্রার এই ভূমিকম্পে চিলিতে মারা গিয়েছিল চার হাজার ৪৮৫ মানুষ। আহত হয়েছিল ২০ লাখের বেশি।

চিত্রঃ চিলি, ভূমিকম্পের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতিঃ

১৯৬০ সালে লাতিন আমেরিকার দেশ চিলির দক্ষিণাঞ্চলে এই শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল। এই ভূমিকম্পে পুয়ের্তো সাভেদ্রা নামে একটি সমুদ্রবন্দর পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। এই ভূমিকম্পের ফলে সাগরে সুনামির সৃষ্টি হয়। সুনামিতে সৃষ্ট ঢেউয়ের কবলে পড়ে ফিলিপাইন ও জাপানে মারা গিয়েছিল আরো ১৭০ জন।

প্রিন্স উইলিয়াম সাউন্ড, আলাস্কা ভূমিকম্পের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতিঃ

২৪ মার্চ ১৯৬৪ : মাত্রা—৯ দশমিক ২, এই ভূমিকম্পের ফলে আলাস্কায় ভয়ংকর ভূমিধসের সৃষ্টি হয়েছিল। এতে সাগরে সুনামিরও সৃষ্টি হয়। মৃতের সংখ্যা ছিল ১২৮ জন আর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ছিল ৩১ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার।

চিত্রঃ প্রিন্স উইলিয়াম সাউন্ড, আলাস্কা

উত্তর সুমাত্রার পশ্চিম উপকূল ভূমিকম্পের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতিঃ,

২৬ ডিসেম্বর ২০০৪ : মাত্রা—৯ দশমিক ১, ভূমিকম্পের সঙ্গে সমুদ্রপৃষ্ঠের পানির উচ্চতা বেড়ে যাওয়ার একটা সম্পর্ক রয়েছে, এটাই সুনামি নামে পরিচিত। পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে প্রাণঘাতী সুনামি বলা হয় ২০০৪ সালে, একটি ৯ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্পের পর।

এশিয়া ও পূর্ব আফ্রিকার ১৪টি দেশে অনুভূত হয়েছিল এই ভূমিকম্প ও সুনামি। এই সুনামিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল ইন্দোনেশিয়া; এক লাখ ৭০ হাজার মানুষ এতে প্রাণ হারায়।

চিত্রঃ উত্তর সুমাত্রার পশ্চিম উপকূল ভূমিকম্পের কারণ

অনেক মৃতদেহই উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। মৃতের সংখ্যা নিরূপণ করতে কয়েক মাস সময় লেগে যায়। ইন্দোনেশিয়ার মৎস্য শিল্প ও কারখানার প্রায় ৬০ শতাংশ পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায় এই সুনামিতে।

নেপালের ভূমিকম্পের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতিঃ

২০১৫ এর নেপাল ভূমিকম্প (এছাড়াও হিমালিয়ান ভূমিকম্প নিচে উল্লেখিত) ৭.৮ বা ৮.১ মাত্রায় একটি ভূমিকম্প যা শনিবার ২৫ এ এপ্রিল ২০১৫ সালে ১১:৫৬ এনএসপি (৬:১২:২৬ ইউটিসি) সময়ে নেপালের লাল রংয়ের পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব কেন্দ্রস্থল থেকে আনুমানিক ২৯ কিমি. (১৮ মাইল) ব্যাপী এলাকায় ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১৫ কিমি (৯.৩ মাইল) গভীরে সংঘটিত হয়।

২৫ এ এপ্রিল ২০১৫ মূল সময় ১১:৫৬:২৬ মাত্রা ৭.৮ গভীরতা ১৫.০ (৯ মাইল) ভূকম্পন বিন্দু ২৮.১৪৫ ডিগ্রী ধরন ধাক্কা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা নেপাল, ভারত, চীন, বাংলাদেশ, পাকিস্তান। হতাহত ৭ হাজার ৭৪৯ জন মৃত ১৭,২০০ জন আহত। নেপালের আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প।

চিত্রঃ নেপালের ভূমিকম্পের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতি

ভূমিকম্পে এখনো পর্যন্ত নেপালসহ ভারত, চীন, ও বাংলাদেশে মোট ৬ হাজার ৫০০ জনের অধিক মানুষ নিহত হয়েছে। জানা যায় এই ভূমিকম্পের ফলে মাউন্ট এভারেস্ট মৃত্যুসংখ্যা ২০১৪ সালের তুষারধ্বসে মৃত্যুসংখ্যাকে ছাড়িয়ে গেছে।

কাঠমুন্ডু শহরে অবস্থিত শতাব্দীপ্রাচীন ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানসমূহ ভূমিকম্পের ফলে ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নেপাল জুড়ে ক্রমাগত এবং স্থানীয় ০৭:০৯:০৮ ইউটিসি সময়ে আরেকটি ৬.৭ মাত্রার ভূমিকম্প ২৬ এপ্রিল আঘাত হানে।

ভূমিকম্প ঝুঁকি মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রস্তুতি ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপঃ

বাংলাদেশ বড় ভূমিকম্পের বিপর্যয় মোকাবিলার ন্যূনতম প্রস্তুতি নেই। নাজুক উদ্ধার তৎপরতার কারণে মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পে ঢাকার মারাত্মক বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। অসহায় ভাবে মৃত্যুর শিকার হতে পারে লাখ-লাখ মানুষ।

প্রাকৃতিক ভাবে বাংলাদেশ ভুমিকম্পপ্রবণ এলাকাতে অবস্থিত। বিশেষজ্ঞদের মতে,যেকোন সময় বড় ধরনের ভুমিকম্পে বাংলাদেশ ব্যপক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখিন হতে পারে।

বাংলাদেশের ভুমিকম্প প্রবণ অঞ্চল সমূহঃ

* প্রথম বলয় (প্রলয়ন্কারী ভূমিকম্প) : বান্দরবান, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও রংপুর এই বলয়ে অবস্থিত এবং এই বলয়ে ভূমিকম্পের সম্ভাব্য মাত্রা রিখটার স্কেলে ৭ ধরা হয়েছে৷

*দ্বিতীয় বলয় (বিপদজনক ভূমিকম্প) : ঢাকা, টাঙ্গাইল, বগুড়া, দিনাজপুর, কুমিল্লা ও রাঙ্গামাটি এতে অবস্থিত এবং এখানে ভূমিকম্পের সম্ভাব্য মাত্রা রিখটার স্কেলে ৬ ধরা হয়েছে৷

* তৃতীয় বলয় (লঘু অঞ্চল) : উপরোক্ত এলাকাগুলো ছাড়া দেশের অন্যান্য এলাকাগুলো যা মোটামুটি নিরাপদ সেগুলো এবলয়ে অবস্থিত৷ এসব অঞ্চলে ভূমিকম্পের সম্ভাব্য মাত্রা রিখটার স্কেলে ৬ এর নিচে ধরা হয়েছে৷

ভূমিকম্পের সময় করণীয়: ভুমিকম্পের সময় তৎক্ষাণীত কিছু করণীয় কাজ।

১।নিজেকে রক্ষা করুনঃ কয়েক সেকেণ্ড বা মিনিটখানেক সময় ভুমিকম্পের স্থায়িত্ব।এই সময়ে ঘরে অবস্থান করলে টেবিল বা ডেস্কের নিচে সপরিবারে অবস্থান নিন। আপনার মাথায় কোনকিছুর আঘাত পাওয়া থেকে রক্ষা পাবেন।

২।ইলেক্টিক,তেল,গ্যাসের চুলা দ্রুত বন্ধ করুনঃভূমিকম্পের সময় আগুন লেগে ক্ষয়-ক্ষতির পরিমান অনেক বেড়ে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতি থেকে রক্ষা পেতে যত দ্রুত সম্ভব রান্না ঘরের গ্যাস, তেল বা ইলেক্ট্রিক চুলা বন্ধ করুন। মনে রাখবেন যত ছোট ভূমিকম্পই হোক না কেন চুলা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে।

৩।তাড়াহুড়া না করে মাথা ঠাণ্ডা রাখুনঃভূমিকম্পের সময় তাড়াহুড়ো করে বাইরে বেড় হতে গেলে ভীড়ে চাপা পড়ে বা উপর হতে মাথায় কিছু পড়ে আহত হতে পারেন। এই জন্য তাড়াহুড়ো না করে ধীর স্থিরভাবে আশপাশ পর্যবেক্ষণ করে তারপর বাইরে বেড় হবার চেষ্টা করুন।

৪।দরজা খোলা রাখুনঃদালানে বসবাসকারীদের প্রধান সমস্যা হয় ভূমিকম্পের সময় দরজা আটকে বন্দী হয়ে যাওয়া। এইজন্য বাইরে যাবার দরজাটি খোলার ব্যবস্থা করুন।

৫।ভবনে থাকা অবস্থায় বা বের হওয়ার সময় মাথাকে রক্ষা করুণঃভূমিকম্পের সময় বহুতল ভবন হতে বাইরে বেড় হবার সময় অনেকেই উপর হতে কোন কিছু পড়ে মাথায় আঘাত পেয়ে থাকেন। এটা এড়াতে বাইরে বেড় হবার সময় মাথার উপর শক্ত বোর্ড বা ট্রে জাতীয় কিছু ধরে রাখুন। এতে করে উপর থেকে কিছু পড়লেও আপনার মাথায় আঘাত লাগবে না। বিছানায় শুয়ে থাকা অবস্থায় ভূমিকম্প হলে বালিশটি মাথার নীচ হতে মাথার ওপরে আনুন।

৬।পাবলিক প্লেজে করণীয়ঃসিনেমা হল, অডিটোরিয়াম, ডিপার্টমেণ্টাল স্টোর, রেল স্টেশন বা এয়ারপোর্টের মত পাবলিক প্লেসে থাকলে সেখানে কর্তব্যরত নিরাপত্তা কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকদের পরামর্শ অনুসরন করুন।

৭।রাস্তায় বামদিকে গাড়ি পার্কিং করুণঃ ভূমিকম্পের সময় আপনি যদি গাড়ি চালানো অবস্থায় থাকেন তাহলে ধীরে ধীরে আপনার গাড়িটি রাস্তার বামপাশে পার্ক করুন। কোন অবস্থাতেই ভূমিকম্পের সময় গাড়ি চালাবেন না।

৮।পাহাড়ি এলাকায় গড়িয়ে পড়া পাথর ও ভুমিধ্বস সম্পর্কে সতর্ক থাকুনঃভুমিকম্পের সময় পাহাড়ের কাছে থাকলে অতি দ্রুত নিরাপদ খোলা মাঠের মতো জায়গায় যান।

৯।উপদ্রুত এলাকা থাকে দ্রুত সরে যানঃভুমিকম্প উপদ্রুত এলাকা দ্রুত নিরাপদ খোলা জায়গায় যান। এ সময় গাড়ি ব্যবহার না করে পায়ে হেঁটে যাওয়া নিরাপদ।

১০।গুজব শুনে বিভ্রান্ত হবেন নাঃছড়ানো গুজব শুনে নিজে নিজের বিপদ ডেকে আনবেন না। সঠিক তথ্যের জন্য রেডিও কিংবা টিভিতে বুলেটিন শুনুন।

স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে তোমার করণীয়:

১। ক্ষতিগ্রস্ত ভবন থেকে ধীর-স্থির ও শৃংখলাবদ্ধ ভাবে বের হওয়া।

২। রেডিও-টেলিভিশন থেকে জরুরি নির্দেশনাবলী শোনা এবং তা মেনে চলা।

৩। বিদ্যুৎ, গ্যাস, টেলিফোন লাইনে কোন সমস্যা হয়েছে কিনা পরীক্ষা করে নেওয়া ও প্রয়োজনীয় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

৪। সরকারের সংস্থাগুলোকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সহযোগিতা করা।

৫। উদ্ধার কাজে নিজেকে নিয়োজিত করা।অস্থায়ী আশ্রয়স্থল ক্ষতিগ্রস্ত লোকদের নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা।যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সার্বিক সহযোগিতা করা।

৬। নিজের এবং অন্যদের আঘাত পরীক্ষা করাবেন প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া।

৭। খালিপায়ে চলাফেরা না করা। লুঠতরাজ থেকে সাবধান থাকা এবং অভিজ্ঞ লোকদের পরামর্শ মত চলা ।

৮। ভূমিকম্প দেশের সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানে পূর্ব প্রস্তুতি থাকা আবশ্যক। সে জন্য সম্ভাব্য ভূমিকম্প পরবর্তী সময়ে সঠিকভাবে নিজেকে সেবায় মনোনিবেশ করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণসহ সব প্রতিষ্ঠান যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।

ভূমিকম্পের ফলাফলঃ

সম্প্রতি সংঘটিত বিশ্বের কয়েকটি দেশের বড় ধরনের ভূমিকম্পের কারণ, উৎস ও ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে তালিকা প্রস্তুত কর। বাংলাদেশ এ ধরণের কোন ভূমিকম্প সংঘটিত হলে এবং বিপুল ক্ষতি হলে সেক্ষেত্রে স্বেচ্ছাসেবক হিসাবে তোমার করণীয় সম্পর্কে একটি প্রতিবেদন তৈরি কর।


See Also…

এসএসসি ২০২২ [১০ম শ্রেনী] বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় ৫ম সপ্তাহ অ্যাসাইনমেন্ট উত্তর

Updated: August 12, 2021 — 2:25 am

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *