‘বর্তমানে কোভিড-১৯ উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শিক্ষা কার্যক্রম চলমান রাখায় ই-লার্নিং এর ভূমিকা’-বিষয়ক ২৫০ শব্দের মধ্যে একটি প্রতিবেদন তৈরি কর

‘বর্তমানে কোভিড-১৯ উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শিক্ষা কার্যক্রম চলমান রাখায় ই-লার্নিং এর ভূমিকা’-বিষয়ক ২৫০ শব্দের মধ্যে একটি প্রতিবেদন তৈরি কর – কোভিড-১৯ মহামারির কারণে সারা বিশ্বে ১ দশমিক ৩৭ বিলিয়ন শিক্ষার্থীর স্বাভাবিক শিক্ষাকার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। ‘নিউ নরমাল’ পরিস্থিতিতে ই-লার্নিং নতুন সম্ভাবনা নিয়ে আবির্ভূত হয়েছে।

ই-লার্নিং এর ক্ষেত্রে সেবা প্রদানের জন্য ইন্টারনেটের পাশাপাশি রেডিও, টেলিভিশন, মোবাইল ও পোস্টাল সার্ভিস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। পাঠ্যসূচির গুণগত মান নিশ্চিত করা এবং এ ধরনের শিক্ষাকার্যক্রমে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর কার্যকর মিথস্ক্রিয়া জরুরি। কি শেখানো হবে এবং কীভাবে শেখানো হবে সেটা যথাযথভাবে নির্ধারণ করা গেলে তা যথার্থ হবে।

‘বর্তমানে কোভিড-১৯ উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শিক্ষা কার্যক্রম চলমান রাখায় ই-লার্নিং এর ভূমিকা’

ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে শিশুরা যাতে যথাযথ সামাজিক দূরত্বে থাকে সেজন্য টিভি, রেডিও, মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে তাদের লেখাপড়া চালিয়ে যেতে সহযোগিতার লক্ষ্যে সরকারের সঙ্গে কাজ করবে ইউনিসেফ। এই উদ্যোগে শিশুদের লেখাপড়া হবে অংশগ্রহণমূলক, এতে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের যুক্ত করা হবে, শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণের ওপর নজর রাখা হবে এবং সাথে সাথে শিক্ষার্থীরা কতটুকু শিখতে পারছে তার মূল্যায়ন করা হবে।

বাংলাদেশ সরকারের তথ্য-প্রযুক্তি বিভাগের অধীনে অ্যাকসেস টু ইনফরমেশনের (এটুআই) মাধ্যমে শিশুদের লেখাপড়া অব্যাহত রাখার জন্য প্রারম্ভিকভাবে শিক্ষার ধারবাহিকতা বিষয়ক পরিকল্পনা তৈরি ও বাস্তবায়নে ইউনিসেফ ইতোমধ্যে সরকারকে সহযোগিতা করা শুরু করেছে। এর আওতায় ধারণকৃত ক্লাস সংসদ টেলিভিশনে সম্প্রচার করা হবে, যার মাধ্যমে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিশুরা ঘরে বসে লেখাপড়া চালিয়ে যেতে পারবে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুলি বন্ধ হয়ে স্বাভাবিক শ্রেণী কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য অস্থায়ীভাবে স্তব্ধ হয়ে গেলেও শিক্ষার প্রচার এবং প্রসারকে থেমে থাকতে দেওয়া যায় না। এইরকম সময়েই ঘরে ঘরে বিশ্বমানের শিক্ষা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে উঠে এসেছে ই-লার্নিং এর ধারণা। তবে ই লার্নিং এর এই ধারণা পুরোপুরি মহামারী পরিস্থিতি থেকে উদ্ভূত ফল নয়।

ই লার্নিং এর সুবিধাসমূহ:

ই-লার্নিং পদ্ধতির অসংখ্য সুবিধাগত দিক রয়েছে। সেইসব দিকগুলির কথা ইতিপূর্বে প্রচলিত থাকলেও তা অত্যন্ত সীমিত পরিসরে আবদ্ধ ছিল। বর্তমানে ই লার্নিং বা ইলেকট্রনিক লার্নিং ব্যবস্থার ব্যাপক প্রসারের ফলে সমাজের সর্বস্তরে এর সুবিধাগুলি বিশেষভাবে অনুভূত হচ্ছে। তেমনি বিশেষ কয়েকটি সুবিধার কথা নিম্নে উল্লেখ করা হলো। 

  • ই লার্নিং পদ্ধতিতে যেকোনো স্থানে বসে ইন্টারনেট সংযোগ ব্যবহার করে পাঠ গ্রহণ করা যায়। অর্থাৎ দূরত্ব শিক্ষা গ্রহণে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না।
  • এই পদ্ধতিতে একজন দক্ষ শিক্ষক শিক্ষার্থীদের কাছে অত্যন্ত বিস্তারিতভাবে কোন বিষয়কে অডিওভিজুয়াল-এর মাধ্যমে ব্যাখ্যা করতে পারেন।
  • একসাথে সামাজিকভাবে সমবেত হওয়ার প্রয়োজনীয়তা না থাকায় বয়সও শিক্ষা গ্রহণের জন্য বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না।
  • ই লার্নিং পদ্ধতিতে শিক্ষা গ্রহণ করবার খরচ তুলনামূলক ভাবে কম হওয়ায় সমাজের সর্বস্তরে এই পদ্ধতিকে প্রয়োগ করে শিক্ষাবিস্তার সম্ভব।
  • এই পদ্ধতিকে ব্যবহার করে সামাজিকভাবে সমবেত হওয়ার প্রয়োজনীয়তা ফুরানোর ফলে কোভিড-১৯ এর মতন যে কোনো সংক্রামক ব্যাধি এড়ানো সম্ভব।
Updated: June 9, 2021 — 5:33 am

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *