Assignment

অভাগীর স্বর্গ গল্পে মানবিক সমাজ গঠনের যে প্রতিবন্ধকতাসমূহ রয়েছে তা কিভাবে দূর করা যেতে পারে বলে তুমি মনে কর? যোক্তিক মত উপস্থাপন কর।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় বিরোচিত ‘অভাগীর স্বর্গ’ গল্পে সামন্তবাদের নির্মম রূপ ও নীচ শ্রেণীর হতদরিদ্র মানুষের দুঃখ-কষ্ট ও যন্ত্রণার ছবি ফুটে উঠেছে। অভাগীর মৃত্যুর পর পুত্র কাঙালী মায়ের সৎকারের প্রয়োজনীয় কাঠের জন্য সমাজের উঁচু শ্রেণীর লোকের নিকট যায়। কিন্তু তারা কাঙালীকে কাঠতো দেয়ইনি, উপরন্তু ভর্ৎসনা, তিরস্কার, অবজ্ঞা, অবহেলা, গলা ধাক্কা প্রভৃতি তাকে সহ্য করতে হয়েছে। সমাজে সর্বদাই উঁচু শ্রেণীর মানুষ কর্তৃক নীচু শ্রেণীর মানুষেরা শোষণ-বঞ্চনার শিকার হয়। সমাজের এই বিষয়গুলো লেখক তাঁর দরদি ভাষায় ‘অভাগীর স্বর্গ’ গল্পে উপস্থাপন করেছেন।

[adToAppearHere]

অভাগীর স্বর্গ
সম্পাদকসুকুমার সেন
লেখকশরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
দেশভারত
ভাষাবাংলা
ধরনসাহিত্য
পটভূমিকলকাতা
প্রকাশনার তারিখ
১৯২৬
মিডিয়া ধরনমুদ্রণ (হার্ডকভার)

[adToAppearHere]

অভাগীর স্বর্গ গল্পে মানবিক সমাজ গঠনের যে প্রতিবন্ধকতাসমূহ রয়েছে তা কিভাবে দূর করা যেতে পারে বলে তুমি মনে কর? যোক্তিক মত উপস্থাপন কর।

[adToAppearHere]

Top Stories

[adToAppearHere]

[adToAppearHere]

ঠাকুরদাস মুখুয্যের বর্ষীয়সী স্ত্রী সাতদিনের জ্বরে মারা গেলেন। বৃদ্ধ মুখোপাধ্যায় মহাশয় ধানের কারবারে অতিশয় সঙ্গতিপন্ন। তাঁর চার ছেলে, তিন মেয়ে, ছেলেমেয়েদের ছেলেপুলে হইয়াছে, জামাইরা-প্রতিবেশির দল, চাকর-বাকর- সে যেন একটা উৎসব বাধিয়া গেল। সমস্ত গ্রামের লোক ধুমধামের শবযাত্রা ভিড় করিয়া দেখিতে আসিল। মেয়েরা কাঁদিতে কাঁদিতে মায়ের দুই পায়ে গাঢ় করিয়া আলতা এবং মাথায় ঘন করিয়া সিন্দুর লেপিয়া দিল, বধূরা ললাট চন্দনে চর্চিত করিয়া বহুমূল্য বস্ত্রে শাশুড়ীর দেহ আচ্ছাদিত করিয়া দিয়া আঁচল দিয়া তাঁহার শেষ পদধূলি মুছাইয়া লইল।

[adToAppearHere]

পুষ্পে, পত্রে, গন্ধে, মাল্যে, কলরবে মনে হইল না এ কোনো শোকের ব্যাপার-এ যেন বড়বাড়ির গৃহিণী পঞ্চাশ বর্ষ পরে আর একবার নতুন করিয়া তাঁহার স্বামীগৃহে যাত্রা করিতেছেন। বৃদ্ধ মুখোপাধ্যায় শান্তমুখে তাঁহার চিরদিনের সঙ্গিনীকে শেষ বিদায় দিয়া অলক্ষে দুফোটা চোখের জল মুছিয়া শোকার্ত কন্যা ও বধূগণকে সান্তনা দিতে লাগিলেন। প্রবল হরিধ্বনিতে প্রভাত-আকাশ আলোড়িত করিয়া সমস্ত গ্রাম সঙ্গে সঙ্গে চলিল। আর একটি প্রাণী একটু দূরে থাকিয়া এই দলের সঙ্গী হইল। সে কাঙালীর মা।

[adToAppearHere]

সে তাহার কুটীর-প্রাঙ্গণে গোটা-কয়েক বেগুন তুলিয়া এই পথে হাটে চলিয়াছিল,এই দৃশ্য দেখিয়া আর নড়িতে পারিল না। রহিল তাহার হাটে যাওয়া, রহিল তাহার আঁচলে বেগুন বাঁধা,সে চোখের জল মুছিতে মুছিতে সকলের পিছনে শ্মশানে আসিয়া উপস্থিত হইল।গ্রামের একান্তে গরুড়-নদীর তীরে শ্মশান। সেখানে পূর্বাহ্নেই কাঠের ভার, চন্দনের টুকরা, ঘৃত, মধু, ধূপ, ধুনা প্রভৃতি উপকরণ সঞ্চিত হইয়াছিল, কাঙালীর মা ছোটজাত, দুলের মেয়ে বলিয়া কাছে যাইতে সাহস পাইল না, তফাতে একটা উঁচু ঢিপির মধ্যে দাঁড়াইয়া সমস্ত অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া প্রথম হইতে শেষ পর্যন্ত উৎসুক আগ্রহে চোখ মেলিয়া দেখিতে লাগিল।

[adToAppearHere]

প্রশস্ত ও পর্যাপ্ত চিতার পরে যখন শব স্থাপিত করা হইল তখন তাঁহার রাঙ্গা পা-দুখানি দেখিয়া তাহার দু’চক্ষু জুড়াইয়া গেল, ইচ্ছা হইল ছুটিয়া গিয়া একবিন্দু আলতা মুছাইয়া লইয়া মাথায় দেয়। বহুকণ্ঠের হরিধ্বনির সহিত পুত্রহস্তের মন্ত্রপুত অগ্নি যখন সংযোজিত হইল তখন তাহার চোখ দিয়া ঝরঝর করিয়া জল পড়িতে লাগিল, মনে মনে বারংবার বলিতে লাগিল, ভাগ্যিমানী মা, তুমি সগ্যে যাচ্চো-আমাকেও আশীর্বাদ করে যাও, আমিও যেন এমনি কাঙালীর হাতের আগুনটুকু পাই।

[adToAppearHere]

ছেলের হাতের আগুন! সে ত সোজা কথা নয়! স্বামী, পুত্র, কন্যা, নাতি, নাতনী, দাস, দাসী পরিজন-সমস্ত সংসার উজ্জ্বল রাখিয়া এই যে স্বর্গারোহণ-দেখিয়া তাহার বুক ফুলিয়া ফুলিয়া উঠিতে লাগিল-এ সৌভাগ্যের সে যেন আর ইয়ত্তা করিতে পারিল না।সদ্য-প্রজ্বলিত চিতার অজস্র ধুঁয়া নীল রঙের ছায়া ফেলিয়া ঘুরিয়া ঘুরিয়া আকাশে উঠিতেছিল, কাঙালীর মা ইহারই মধ্যে ছোট একখানি রথের চেহারা যেন স্পষ্ট দেখিতে পাইল। গায়ে তাহার কত না ছবি আঁকা, চূড়ায় তাহার কত না লতাপাতা জড়ানো। ভিতরে কে যেন বসিয়া আছে- মুখ তাহার চেনা যায় না, কিন্তু সিঁথায় তাঁহার সিঁদুরের রেখা, পদতল- দুটি আলতায় রাঙানো। ঊর্ধ্বদৃষ্টে চাহিয়া কাঙালীর মায়ের দুই চোখে অশ্রুর ধারা বহিতেছিল, এমন সময়ে একটি বছর চোদ্দ-পনরর ছেলে তাহার আঁচলে টান দিয়া কহিল, হেথায় তুই দাঁড়িয়ে আছিস মা, ভাত বাঁধবি নে?

[adToAppearHere]

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *